টাকা অহংকারী বানায়,আর শিক্ষা ও সংস্কার মানুষ বানায়- জাকির হাওলাদার


প্রকাশের সময় :২৩ জুন, ২০২০ ১০:১৭ : পূর্বাহ্ণ

মানুষ হতে মনুষ্যত্ব  ও পারিবারিক সুশিক্ষা প্রয়োজন,টাকা নয়। টাকা মানুষকে অন্ধ করতে পারে, যদি সে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্জন করে পেলে।

১. পেকুয়া উপজেলার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত সকল ইউএনও’র সাথে ভাল সম্পর্ক ছিলো। তবে যাদের সাথে হৃদ্যতা একটু বেশী ছিলো তাদের মধ্যে মারুফ রশিদ খান অন্যতম। উনার বাসায় অনেকবার গিয়েছি কিন্তু একটি বিষয় আমার কাছে বেখাপ্পা মনে হতো। সবসময় খেয়াল করতাম উনার বাচ্চাদের গায়ের কাপড়গুলো খুবই কম দামী। চাঁদপুরে একই এলাকায় বাড়ি হওয়ার কারণে উনাকে ভাই ডাকতাম।

বললাম, মারুফ ভাই আপনি একটা ইউএনও মানুষ, আপনিতো ভাল বেতন পান কিন্তু বাচ্চাদেরকে ফুটপাত থেকে কেনা কাপড়ের মতো কমদামি কাপড় কেন পড়ান?
উত্তরে উনি বললেন, “হ্যা আমি ভাল বেতন-ভাতা পাই এবং আমার বাচ্চাদেরকে দামী কাপড়চোপড় পড়াতে পারি। কিন্তু পড়াই না, কারণ আমাদের বাচ্চারা দামী কাপড়চোপড় পড়ে সাধারণ মানুষ থেকে নিজেদেরকে বড় না ভাবুক এবং তারা যে ইউএনও’র ছেলে এই অহংকার তাদের মধ্যে না আসুক এটাই আমি চাই।”
উল্লেখ্য মারুফ রশিদ খানের পিতা চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। উনারা তিন ভাই। তিনজনই বিসিএস ক্যাডার।

২.
বাদল সৈয়দ নামে এক কর কমিশনারের একটি অভিজ্ঞতার কথাঃ
“তিনি অতি পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। আমার সাথে দেখা এ শতকের প্রথম দিকে। তখন তাঁর বয়স প্রায় পঁচাশি। আমি একবার জিজ্ঞেস করলাম, স্যার, কিছু মনে করবেন না, এ বয়সে আপনার কি এতো ঝামেলা করে অফিসে অফিসে ঘুরার দরকার আছে? বাড়িতে আর কেউ নেই?

তাঁর চেহারা কুঁচকে গেলো, সেখানে কিলবিল করতে লাগলো হতাশা। তিনি বললেন, আপনি আমার পুত্র না, নাতির বয়সী। আপনাকে একটি কথা বলি, চাকুরি জীবনে আমি প্রয়োজনের চাইতে বেশি কামিয়েছিলাম। সেটিই আমার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি মাত্র ছেলে। পড়াশুনা করেনি। সারাদিন ঘুমায় আর সন্ধ্যা হলে ক্লাবে গিয়ে মদ নিয়ে বসে। মাঝরাতে পাঁড় মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ভোরের দিকে ঘুমায়। তারপর সারাদিন বিছানায়। বিয়েশাদিও করাতে পারি নাই।
বলতে বলতে তিনি কাছে ঝুঁকে বললেন, ভাই, আমার ছেলে মানুষ হয় নাই কেন জানেন?

আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে আছি।
তিনি বলতে লাগলেন, কারণ সে জানে তাঁর বাবার টাকা এক জন্মে খেয়ে সে শেষ করতে পারবে না। আমি যদি প্রয়োজনের বেশি উপার্জন না করতাম তাহলে এটা হতো না। সন্তান ‘অমানুষ’ হওয়ার মতো কষ্ট আর কিছুতে নেই ভাই।”

মন্তব্যঃ
আপনার থাকলেই ছেলেমেয়েদের জন্য অবাধে খরচ করতে হবে এমনটা ভাবা ঠিকনা। ছেলেমেয়েদেরকে পড়ালেখা শিখিয়ে মানুষ করার জন্য নূন্যতম যতটুকু খরচ করা দরকার ততটুকু করুন। মনে রাখবেন প্রাচুর্যের মধ্যে থাকা সন্তানরা খুব কমই সফল মানুষ হয়।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
জুন ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মে   জুলাই »
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০