হাসপাতালের আইসিইউ বেড ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্ন


প্রকাশের সময় :১০ জুন, ২০২০ ১০:০০ : পূর্বাহ্ণ

শরীফুল আলমঃ

সবকিছু ঠিক থাকলে রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল ঘুরতে হচ্ছে কেন- এই প্রশ্ন করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
করোনাকালীন সময়ে দেশের হাসপাতালগুলোর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) বেড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (১০ জুন) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। এরপর আদালত এ রিটের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন।

 

 

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

শুনানিতে রিটকারী আইনজীবী আদালতকে বলেন, ‘করোনার মধ্যে রোগীরা আইসিইউ বেড পাওয়ার আশায় এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে হয়রান হচ্ছেন। করোনাকালীন সময়ের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য যেসব হটলাইন নম্বর রয়েছে সেগুলোতে আমি নিজেও চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রথম চারটি নম্বর কল রিসিভ করেনি। তবে পঞ্চম নম্বরে কল দেওয়া হলে তা রিসিভ করা হয়। কিন্তু রোগী ভর্তির জন্য কোনও আইসিইউ বেড তখনই খালি রয়েছে কিনা তা জানতে চাওয়া হলে তারা কোনও তথ্য না দিয়ে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলেন। সুতরাং, এর দ্বারা বিষয়টি স্পষ্ট যে, সাধারণ রোগীরা ওইসব হটলাইনে কল করে দেশের কোনও হাসপাতালে আইসিইউ বেড খালি রয়েছে কিনা তা তারা জানতে না পেরে হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে হয়রান হচ্ছেন।’

 

 

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সারাদেশে সরকারি হাসপাতালগুলোর ৭৩৩টি আইসিইউ বেডের তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তারা জানান, আইসিইউ বেড সংখ্যা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এটি সময় সাপেক্ষ বিষয়। কেননা আইসিইউ বেড তৈরি করলেই হবে না, এগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ লোকবলেরও প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে আইসিইউ বেডগুলোর বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে সরকারিভাবে সবকিছুই মনিটরিং করা হচ্ছে।

 

এরপর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যদি সবকিছু মনিটরিং করা হয়েই থাকে তাহলে রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল ঘুরতে হচ্ছে কেন?’

 

আদালত আরও বলেন, ‘শুধু আইসিইউ ব্যবস্থাপনা নয়, অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে আরও দুটি রিট দায়ের করা হয়েছে। আমরা রিটগুলো একসঙ্গে শুনতে চাই। তাই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রবিবার (১৪ জুন) দিন ধার্য রাখা হলো।’

 

 

এর আগে গত ৭ জুন করোনাকালীন সময়ের জন্য দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউগুলো সরকারের তত্ত্বাবধানে অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে রিটে আইসিইউর বেডগুলো পর্যালোচনায় রাখতে অনলাইনের মাধ্যমে ‘সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো’ চালুরও নির্দশনা চাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান এই রিট দায়ের করেন।

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ছয় জনকে এ রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

 

 

রিটে বলা হয়, করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসিইউ বেড সংরক্ষণ রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি উপলব্ধি করে ভারতের রাজস্থান, ছত্তিশগড় এবং মধ্যপ্রদেশসহ বেশকিছু প্রদেশে ইতোমধ্যে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধীনে বেসরকারি হাসাপাতালগুলো অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তাই করোনা প্রকোপ বিবেচনায় রেখে আমাদের দেশেও সব বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউগুলো অধিগ্রহণ করা জরুরি। এছাড়া বেসরকারি হাসাপাতালের আইসিইউগুলো সরকার অধিগ্রহণ করলে তা পর্যবেক্ষণের জন্য ‘সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো’ চালু করতেও রিটে নির্দেশনা চাওয়া হয়।

সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো প্রসঙ্গে আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান বলেন, ‘সারাদেশে কোন কোন হাসপাতালে কয়টি আইসিইউ বেড খালি আছে, কোথায় খালি নেই, মূলত সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো সেসব বিষয় পর্যবেক্ষণে রাখবে। তাই এ ব্যবস্থা চালু হলে রোগীদের অযথা হাসপাতাল ঘুরে হয়রান হতে হবে না। তারা আগে থেকে জেনেই নির্দিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।’

 

গত ৮ জুন ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে দেশের সব হাসপাতালের আইসিইউ বেড সংখ্যা, করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালের নির্ধারিত আইসিইউ বেড সংখ্যা এবং আইসিইউ সমূহের সেন্ট্রাল মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে কিনা তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
জুন ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মে   জুলাই »
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০