যেভাবে করোনা জয়ী করলেন নিউজিল্যান্ড


প্রকাশের সময় :৮ জুন, ২০২০ ৫:১১ : অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটা অবশ্যই সহজ ছিলো না। তবে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে করোনামুক্ত নিউজিল্যান্ড। দেশটিতে এখন কোনো প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের রোগী নেই বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখের পর এ প্রথম দেশটি ‘করোনাশূন্য’ হলো বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 

সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সবশেষ যে ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল ৪৮ ঘণ্টা ধরে কোনো উপসর্গ দেখা না দেয়ায় তাকেও আইসোলেশন থেকে মুক্ত করা হয়েছে। দেশটিতে নতুন করে কোনো করোনায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি, হাসপাতালেও কেউ নেই। ২২ মে নিউজিল্যান্ডের সর্বশেষ করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

 

করোনাকে ঠেকাতে এতদিন লক্ষ্যহীন ভাবে দৌড়াচ্ছিল সবাই। সেই গন্তব্যের ঠিকানা দেখিয়ে দিলো নিউজিল্যান্ড। কিভাবে মৃত্যুর চক্র থেকে বেরিয়ে এক বুক অক্সিজেন নেয়া যায় সেটি দেখিয়ে দিলো দেশটি। করোনা মুক্তির খবর খুশিতে আত্মহারা নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সগর্বে জানান, হ্যাঁ আমরা করে দেখিয়েছি।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এই প্রথম বিশ্বের কোনো দেশ করোনা থেকে মুক্ত হতে পেরেছে। গত ১৭ দিনে একটিও করোনা রোগী শনাক্তের খবর পাওয়া যায়নি সেখানে। ওই সময় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল শূণ্য।

করোনামুক্ত হওয়ায় মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে দেশটিতে দোকানপাট, অফিস, শপিংমল ও সিনেমা হল খুলবে। অর্থনীতির চাকা সচল করতে পর্যটন ক্ষেত্রকেও চাঙ্গা করার পরিকল্পনা শুরু করেছে দেশটি।

 

বর্তমানে বিশ্ববাসীর মনে একটাই প্রশ্ন যে, কিভাবে এটিকে সম্ভব করতে পারলো নিউজিল্যান্ড! করোনার বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের লড়াইর পরিকল্পনা জানলেই পাওয়া যাবে সেই উত্তর।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে নিউজিল্যান্ড। ১৭ মার্চ দেশটিতে ১২ জনের আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। ২৪ মার্চ আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ১০৩ জন। ২৮ মার্চ একেবারে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায় আক্রান্তের সংখ্যা। তার মাত্র এক সপ্তাহ পরেই সংখ্যাটি একশর নীচে নামে। এরপর ৮ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধ শতাধিকের নীচে ছিল সেখানে। এরপর টানা ১৭ দিনে কোনো করোনা

সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি দেশটিতে।

করোনার বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের পদক্ষেপ:

লকডাউন : গত ১৯ মার্চ দেশটিতে ২৮ জন করোনা রোগী শনাক্তের খবর পাওয়া যায়। এরপরই সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় আর্ডেন সরকার। একসঙ্গে ১০০ জনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

লেভেল ১-৩: ৪টি স্তরে লকডাউন ঘোষণা করা হয় নিউজিল্যান্ডে। ২৩ মার্চ প্রাথমিক সতর্কতা জারি করা হলেও ২ দিন পরই লেভেল ৩ লকডাউন জারি করা হয় দেশটিতে। নিত্য প্রয়োজনীয় ছাড়া অন্যান্য পণ্যের ব্যবসা বাণিজ্য, যেকোনো ধরণের জমায়েত ও অনুষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ করা হয়। বন্ধ রাখা হয় স্কুল-কলেজও।

লেভেল ৪: লেভেল ৪ এ দেশজুড়ে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। তখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ২৮৩ জন। উল্লেখ্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতেই ২৭ এপ্রিলে ফের লেভেল ৩-এ চলে যায় নিউজিল্যান্ড। অর্থাৎ বেশ কিছু ক্ষেত্রে লকডাউন শিথিল করা হয় দেশটিতে।

গত ১৭ দিন করোনা সংক্রমণ না থাকায় লেভেল ১- এ ফিরেছে নিউজিল্যান্ড। তবে, সংক্রমণ আতঙ্ক একেবারে উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না সেখানে। এখনও বেশ কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কড়া করা হয়েছে।

করোনা পরীক্ষা:

মার্চের শুরুতেই করোনা আক্রান্ত দেশগুলো থেকে যাওয়া নাগরিকদের নমুনা পরীক্ষা শুরু করে নিউজিল্যান্ড। অনেকক্ষেত্রে উপসর্গ থাকলেও নির্ধারিত চেকলিস্টে না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়। ১০ মে পর্যন্ত এক লাখ ৯৪ হাজার ১৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় করোনায় পজিটিভের হার ছিল মাত্র ০ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

৩০ এপ্রিলে দেখা যায় পাসিফিকা নামে জনগোষ্ঠীর করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর ওই জনগোষ্ঠীর মোট ২ দশমিক ৯ শতাংশের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

১৬ এপ্রিলের পর থেকে গোষ্ঠী সংক্রমণ ঠেকাতে জনবহুল জায়গায় পরীক্ষা শুরু হয়। মোট ২লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ জনের পরীক্ষা করা হয়।

সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা:

নিউজিল্যান্ডের মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ আসে পর্যটন শিল্প থেকে। বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের এটিই অন্যতম মাধ্যম। তবে লকডাউন ঘোষণার সঙ্গে পুরোপুরি সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয় দেশটিতে। শুধুমাত্র নিজের দেশে ফেরার অনুমতি দেয়া হয় নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের। তবে দেশে ফিরেই ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করে দেশটি।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন জানিয়েছেন, আমরা করোনাকে দূর করতে সক্ষম হয়েছি। তবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই এখানেই শেষ নয়। আমরা কত দিন করোনা মুক্ত পরিবেশ রাখতে পারি, এটাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ধীরে ধীরে সব কিছু খুললেও, সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকা, মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র- জি নিউজ

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
জুন ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মে   জুলাই »
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০