“পর্যটন আকর্ষণে বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ”


প্রকাশের সময় :৫ জুন, ২০২০ ২:৪৫ : অপরাহ্ণ

প্রজন্ম ভ্রমণ প্রতিবেদকঃ

লাখো শহীদের বিন্দু বিন্দু রক্ত দিয়ে গড়া চির সবুজের এই বেষ্টনী আমাদের প্রানের বাংলাদেশ।অনেক বিখ্যাত পরিব্রাজকদের মধ্যে কেউ বলেছেন,সম্পদে পরিপূর্ণ দ্বীপ আবার কেউ বলেছেন নিয়ামতপূর্ণ দোযক।সবকিছুকে ছাপিয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণকারীদের কাছে হয়ে উঠেছে পৃথিবীতে এক বৈচিত্রময় দেশ।

 

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি বৈচিত্রময় হওয়ার পেছনে বড় অবদান ভারতীয় পাহাড়্গুলোর।ভারতীয় পাহাড়গুলো থেকে পতিত পানি প্রবাহে সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর অন্যত্ম বৃহত্তম ব-দ্বীপ যেটিকে মনে হবে পৃথিবীর মাঝে এক অন্য পৃথিবী।কবি যতাথই বলেছেন,বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না”।
বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে ছয়-ঋতু মিলিয়ে বারো মাসে তেরো পার্বণ।নতুন ঋতুতে নতুন প্রকৃতির আগমনী বার্তার সাথে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা আর সেই সাথে ঋতুতে ঋতুতে যেন ঋতুবৈচিত্রতা।বাংলাদেশের সৃষ্টি করেছে কোন এক শিল্পী যার সৃষ্টিতে কোন কমতি নেই। যেটি পাহাড়-পবত,নদী-নালা,খাল-বিল,হাওর-বাওর,সাগর,চর,দ্বীপের সংমিশ্রনে গঠিত।আন্তঃসীমান্ত ৫৮ টি নদী সহ ৭৩০ টি মোট নদ-নদী,ভারত-মিয়ানমারের সাথে ৩২ টি সিমান্ত জ়েলা সংযোগ,বঙ্গোপসাগরের সাথে ভারত মহাসাগরের মিতালী,তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্য;বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন-সুন্দরবন,বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত –কক্সবাজার(১২০ কিমি),ষাট গম্বুজ মসজিদ,
বৌদ্ধ সভ্যতার স্মৃতিচিহ্ন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার,কুমিল্লার ময়নামতি ও শালবন বিহার,পৃথিবীর প্রাচীনতম বৌদ্ধ-বিদ্যাপীঠ ভাসু বিহার,মৌর্য সাম্রাজ্য ও রাজা পশুরামের মহাস্থানগড়,বেহুলা—লখিন্দরের স্মৃতি বিজড়িত গোকুল মেধ,বিশ্বের একক বৃহৎতম পাহাড়ী দ্বীপ-মহেশখালী,জীবন্ত প্রবাল দ্বীপ-সেন্টমার্টিন,সাগরকন্যা-পটুয়াখালি যেখান থেকে যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোইদেখা যায়,পাহাড়ী কন্যা-বান্দরবান,পৃথিবীর
স্বর্গ-সিলেট ,সাজেক- স্বপ্নের ভ্যালি,কান্তজির মন্দির,সংস্কৃতিক বৈচিত্রতার সাথে ৪৭ টি আদিবাসী গোষ্ঠীর বসবাস এই কল্পনার নগরীতে।

 

 

কৃষ্টির দিক থেকেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ।মহোৎসব ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বরণ করে নেই বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখকে।রমনার বট্মূলের পাদদেশে শিল্পীদের কন্ঠে ,”এসো হে বৈশাখ, এসো এসো” গানটির মাধ্যমে বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনকে স্বাগত জানানো হয়।কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে মঙ্গলসোভাযাত্রার মাধ্যমে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করা হয়।

পাহাড়ী এলাকাগুলোতে আধিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এক মহোৎসবের মাত্রা যোগ হয় বৈসুবি উৎসবের মাধ্যমে। বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু উৎসবে মেতে উঠে বিভিন্ন আধিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা।বাংলার প্রত্যেকটি গ্রামে বসে বৈশাখী মেলা,নৌকাবাইচ খেলা,মিষ্টি ও জিলাপী নিয়ে আত্মীয়দের বাড়ী যাওয়ার ধুম।

 

 

বাঙ্গালীদের আতিথীয়তার ছাপ পাওয়া যায় বাংলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে,একটি বাড়ীও পাবেন না যেখান থেকে এক গ্লাস পানি না খেয়ে আপনাকে আসতে দেবে।আতিথীয়তার দিক থেকে শুধু এশিয়ায় দেশগুলোতে নয় সারাবিশ্বের কাছে আমরা বঙ্গালি অথিতিপরায়ন জাতি,তাই বললেও ভুল হবে না”বাংলাদেশ গোটা পৃথিবীর কাছে আতিথীয়তার রাজধানী”।

আমরা উদযাপন করি পহেলা ফাল্গুন,চৈত্র সংক্রান্তি,পিঠা উৎসব,ফল উৎসব,লালন মেলা,পান্থা উৎসব আর এসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ টিকিয়ে রেখেছে আপন সত্তাকে বিলীন হতে দেইনি তাদের এতিহ্যকে ও অথিতিপরায়নতাকে ।বাংলাদেশের প্রত্যেকটি স্থান এক একটি পর্যটন কেন্দ্র।প্রত্যেকটি স্থানের আছে আলাদা বৈশিষ্ট ও আলাদা আলাদা আবেদন।এ জন্যই বাংলাদেশ এতো বৈচিত্রময়।

 

 

মোঃসাইফুল্লাহ রাব্বী
প্রভাষক, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ , ড্যাফোডিল ইনিস্টিউট অব আইটি।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ট্যুরিজম ইনোভেশন।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
জুন ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মে   জুলাই »
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০