ক্যারিয়ার গড়তে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে


প্রকাশের সময় :৭ এপ্রিল, ২০২০ ৪:১৩ : পূর্বাহ্ণ
ক্যারিয়ার (career) নিয়ে দু-চারটি কথা বলেনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। এর যথেষ্ট কারনও বিদ্যমান। হাটে-বাজারে, রাস্তা-ঘাটে, যত্রতত্র যে যেখানে সুযোগ পায় দুই এক লাইন আলোচনা করে ক্যারিয়ার নিয়ে। এমনও আজিব লোক দেখেছি যারা বাজার করতে করতে  বিশাল ক্যারিয়ার প্ল্যান শেয়ার করে নিয়েছিল। ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলার ডিগ্রি লাগে  ডজন খানেক। আবার আমার পড়ালেখা না করেও বাস্তব কয়েকটি হাতে গুণা অভিজ্ঞতা থেকেও আলোচনা করা যায়। আজ ঠিক তাই করতে বসছি।
তাহলে আর কথা বাড়িয়ে একটা পরিচিত বানী দিয়ে শুরু করি-
“থাকতে হবে জাগার মতো জেগে
ছুটতে হবে সময় ঘড়ির বেগে
আনতে হবে সুদিন আলোর ভোর
খুলতে হবে শান্তি সুখের দো’র “ঘুমের মধ্যে যারা ক্যারিয়ার খুঁজে তারা কিন্তু ভুল করেনা কারন সেটাও একটা ক্যারিয়ার। ঘুমকে তারা ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়ে অনেক হ্যাপি। সুতরাং, এটাও বিনাকষ্টে অর্জিত একটা ক্যারিয়ার। আবার বিনাকষ্টে বলাটাও অন্যায়ের পর্যায়ে।   ঘুম না আসার কষ্ট নেহায়েত কম নয়।

“থাকতে হবে জাগার মতো জেগে” চোখ-কান খোলা রেখে, ভালো-মন্দ বিচার করে যারা সজাগ থাকে নিতান্তই সফলতার ইতিহাস তারাই গড়ে তাতে কারও দ্বিমত নেই।

“ছুটতে হবে সময় ঘড়ির বেগে” কথাটির জ্বলন্ত উদাহরণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মোবাইল কোম্পানির মধ্যে অন্যতম Nokia’র মতো ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি। সময় এবং ঘড়ির গতিবেগ না বুঝে আজকে তাদের মার খেয়ে দিল নতুন অনেক কোম্পানি। আজ  থাক সে কথা।
প্রতিটি জিনিসের দ্বীর্ঘমেয়াদি প্ল্যান নিতে হলে দরকার একটা পরিকল্পনা আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে থাকতে হবে স্বপ্ন।
সেজন্য মনে হয় মাইক টাইসন বলেছিলেন-
“আমি একজন স্বপ্নবাজ। আমি তারা ধরার স্বপ্ন দেখি; যদি কোনও কারণে তারা ছুঁতে না-ও পারি, মেঘ আমি ঠিকই ছুঁতে পারব”।

স্বপ্নকে পুঁজি করে হয়তো সফলতার মঞ্জিল খুঁজে পাওয়া ৩০ তম আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কোলিজ বলেছিলেন –
“স্বপ্ন দেখার কোনও বিকল্প নেই। প্রতিভা যথেষ্ঠ নয়; পৃথিবী ব্যর্থ প্রতিভাবানদের দিয়ে ভরা। শিক্ষা যথেষ্ঠ নয়; পৃথিবীর সবখানে শিক্ষিত অসহায় ও নি:স্ব মানুষ খুঁজে পাবে। স্বপ্ন দেখা, এবং তাকে লক্ষ্য বানিয়ে তাকে অর্জনের জন্য পরিশ্রম করা মানুষের দ্বারাই যে কোনো কিছু করা সম্ভব।
তাঁর কথাটাকে যদি আমরা ফেলে না দিয়ে একটু আমলে নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখি তাহলে আমরা দেখতে পাই, প্রতিভাধর, উচ্চশিক্ষিত লাখের বেশি এখনো পাওয়া যাবে বাংলাদেশে যারা ব্যর্থ। যদি তারা ব্যর্থতার গ্লানি মুছে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের বানীটি শুনে স্বপ্ন বুনে নতুন করে তাহলে তাদের ক্যারিয়ারে বিপ্লব ঘটে যাবে।
সমাপ্তি মানেই শেষ নয়। ‘END’ শব্দটির মানে হচ্ছে ‘Effort Never Dies’ অর্থাৎ ‘প্রচেষ্টার মৃত্যু নেই’।ফেল করে হতাশ হয়ো না। ইংরেজি শব্দ ফেল ‘Fail’ মানে ‘First Attempt in Learning’ অর্থাৎ ‘শেখার প্রথম ধাপ’। বিফলতাই তোমাকে সফল হবার রাস্তা দেখিয়ে দেবে।

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের এই উক্তিটি আরেকটু আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করি-
“স্বপ্ন পূরণের জন্য তোমার সবগুলো সিঁড়ি দেখতে পাওয়ার দরকার নেই, শুধু প্রথম সিঁড়িটা দেখতে পেলেই হবে”।

এরপরেও যাদের হতাশার ঢেকুর গিলতে মন চাইবে তাদের জন্য আরেকটু আবদার করেছিল  ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি রকেট বিজ্ঞানী এপিজে আব্দুল কালাম। তিনি বলেছিলেন-
কোনো একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছো না! চিন্তা করো না- ‘NO’ শব্দের মানে হচ্ছে ‘Next Opportunity’ অর্থাৎ ‘পরবর্তী সুযোগ’।

এবার আশা যাক মিডল ফ্যাক্টরে। মনীষীদের স্বপ্ন,লক্ষ্য,পরিকল্পনা এসব বিষয় নিয়ে কোরআন কি বলে-
কোরআনের উত্তর হচ্ছেঃ
اِقۡرَاۡ کِتٰبَکَ ؕ  کَفٰی بِنَفۡسِکَ الۡیَوۡمَ عَلَیۡکَ  حَسِیۡبًا
পাঠ কর তোমার কিতাব, আজ তুমি নিজেই তোমার হিসাব-নিকাশকারী হিসেবে যথেষ্ট।( বনী ইসরাঈলঃ১৪)
(It will be said to him): Read your book. You yourself are sufficient as a reckoner against you this Day.অর্থাৎ, তোমার সফলতা আর বিফলতার জন্য তুমি পূর্বের পরিকল্পনা আর স্বপ্নকে পর্যালোচনা কর। কি করতে চেয়েছিলে আর কি করেছ এবং যা করেছ তার মধ্যে কি কি পেয়েছ। এই হিসাব করার জন্য কোনো দার্শনিক কিংবা গণিতবিদের দরকার পড়বেনা। এটা করার জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট।

আগামীর জন্য কি করা প্রয়োজন তার একটি সুন্দর ছক তৈরি করার জন্য কোরআন সুন্দরভাবে উপদেশ দিলেন নিম্মোক্ত আয়াতে।

আল্লাহ এরশাদ করেন-
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ  وَ لۡتَنۡظُرۡ  نَفۡسٌ مَّا قَدَّمَتۡ لِغَدٍ ۚ وَ اتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ  خَبِیۡرٌۢ   بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ

হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর; আর প্রত্যেকের উচিত চিন্তা করে দেখা সে আগামীকালের জন্য কি প্রেরণ করেছে; তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।( হাশরঃ১৮)

O you who believe! Fear Allah and keep your duty to Him. And let every person look to what he has sent forth for the morrow, and fear Allah. Verily, Allah is All-Aware of what you do.

উপরিউক্ত দুইটি আয়াতকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি স্বপ্ন দেখা, ক্যারিয়ার বিকাশে পরিকল্পনার ছক তৈরি করা নিতান্তই বুদ্ধিমানের এবং ঈমানদারের কাজ।আর এই সকল কাজগুলো সহজ করার জন্য আত্ম-জিজ্ঞাসা করতে ৫টি বাক্য শিখিয়েছিলেন রকেট বিজ্ঞানী এপিজে আব্দুল কালাম।
তাঁর মতে,
প্রতিদিন সকালে এই পাঁচটা লাইন বলো:

১) আমি সেরা।

কথাটি শুনলে মনে হবে অন্যরকম।  আসলে ব্যক্তি নিজেকে এমন সব প্রশ্ন করতে পারবে কিনা এ বিষয়ে একটু যদি ধর্মীয় দিক বিবেচনা করি তাহলে আমরা পাই, মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। সেই হিসেবে নিজেকে একজন সেরা জাতি হিসেবে আত্মসমালোচনা করতে সেরা দাবি করাটা কোনো ধর্মে অন্যায় বলে মনে হয়না।  আর যে নিজেকে সেরা দাবি করে সে কখনো পশুর মত কাজ করতে পারেনা। যে নিজেকে সেরা দাবি করে  সে কখনো অপরিকল্পিত থাকতে পারেনা। যে নিজেকে সেরা দাবি করে সে কখনো ব্যক্তিত্বহীন হতে  পারেনা। যে নিজেকে সেরা দাবি করে সে কখনো অপদার্থ হতে পারেনা। এককথায় তার কাজে-কর্মে, সৃজনে-মননে সব সময় সেরাটাই চাইবে।

পবিত্র কোরআনে সুরা আলে ইমরানের মধ্যে আল্লাহ এরশাদ করেন-
کُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ تَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ ؕ وَ لَوۡ اٰمَنَ اَہۡلُ  الۡکِتٰبِ لَکَانَ خَیۡرًا لَّہُمۡ ؕ مِنۡہُمُ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ وَ اَکۡثَرُہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ

তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত,যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করবে। আর যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত, তবে অবশ্যই তা তাদের জন্য কল্যাণকর হত। তাদের কতক ঈমানদার। তাদের অধিকাংশই ফাসিক। (আলে ইমরানঃ১১০)

You [true believers in Islamic Monotheism, and real followers of Prophet Muhammad SAW and his Sunnah (legal ways, etc.)] are the best of peoples ever raised up for mankind; you enjoin Al-Ma’ruf (i.e. Islamic Monotheism and all that Islam has ordained) and forbid Al-Munkar (polytheism, disbelief and all that Islam has forbidden), and you believe in Allah. And had the people of the Scripture (Jews and Christians) believed, it would have been better for them; among them are some who have faith, but most of them are Al-Fasiqun (disobedient to Allah – and rebellious against Allah’s Command).

২) আমি করতে পারি। (I can or I can do it)
মানুষরা পারেনা এমন কিছুই পৃথিবীতে নেই। কাজেই নিজেকে ২য় প্রশ্নটি করা অযৌক্তিক বলে মনে করিনা।
কারন,
বিজ্ঞানীরা আজও মানুষের ব্রেনের ক্যাপাসিটি বা ধারণক্ষমতা নির্ণয় করতে সক্ষম হননি। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, আপনি যদি ৩০ লাখ ঘণ্টা বা ৩৪২ বছর একনাগাড়ে মস্তিষ্কের মেমোরি কার্ডে সারাক্ষণ ভিডিও ধারণ করেন, তাতেও আপনার মস্তিষ্ক নামের সুপার কম্পিউটারের মেমোরি স্পেস পূরণ হবে না।

মস্তিষ্কের মেমোরি স্পেস নিয়ে গবেষণা তথ্যে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির অধ্যাপক ড. পল রেবার উল্লেখ করেছেন, মানুষের মস্তিষ্কে রয়েছে ১০০ কোটি বা এক বিলিয়ন নিউরন। প্রতিটি নিউরন একে অপরের সঙ্গে গড়ে তুলেছে ১ হাজার সংযোগ, যার গাণিতিক সংখ্যা হবে এক ট্রিলিয়নের বেশি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি প্রতিটি নিউরন একটি করে মেমোরি ধারণ করে তা হলেও কারও জীবদ্দশায় কখনও মেমোরি স্পেস শেষ হবে না। বরং এক একটা নিউরন অসংখ্য মেমোরি ধারণ করতে সক্ষম।

৩) সৃষ্টিকর্তা সবসময় আমার সঙ্গে আছে।
যারা ধর্মে বিশ্বাসী তাদের জন্য এই প্রশ্নটি অনেক বেশি যৌক্তিক বলে মনে হবে। তবে যারা ধর্মে বিশ্বাসী নয় তারা এটাকে নিয়তি হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারেন।
যাক যেহেতু প্রশ্নটি সৃষ্টিকর্তা নিয়ে সেহেতু তার সাথে একটু ধর্মীয় গ্রন্থের সম্পর্কটা কতটুকু আছে দেখে আসা যাক।
ঘটনাটি অনেক পুরাতন। প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম আর ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাজিয়াল্লাহু আনহু যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন। প্রতিমধ্যে তাঁরা আল্লাহর নির্দেশে গুহার মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। তন্মধ্যে খলিফা আবু বকরকে অভয় দিয়ে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বানী শুনাচ্ছিলেন-

اِذۡ یَقُوۡلُ لِصَاحِبِہٖ لَا تَحۡزَنۡ اِنَّ اللّٰہَ مَعَنَا ۚ

যখন সে তার সঙ্গীকে বলল, ‘তুমি পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন’। (সুরা তাওবাঃ৪০)

Mohammad (SAW) said to his companion (Abu Bakr): Be not sad (or afraid), surely Allah is with us.

অন্যত্রে বিশ্বাসী বান্দাদেরকে উদ্দেশ্য করে  আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা আরেকটি ভাষন দিলেন-

وَ لَا تَہِنُوۡا وَ لَا تَحۡزَنُوۡا وَ اَنۡتُمُ الۡاَعۡلَوۡنَ  اِنۡ  کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ

আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, আর তোমরাই বিজয়ী হবে যদি মুমিন(বিশ্বাসী) হয়ে থাক। (সুরা আলে ইমরানঃ১৩৯)

So do not become weak (against your enemy), nor be sad, and you will be superior (in victory) if you are indeed (true) believers.

৪) আমিই জয়ী বা সফল।
জেমস ডিন বলেছিলেন-
“স্বপ্ন দেখ চিরদিন বেঁচে থাকার; আর প্রতিটি দিন এমন ভাবে বাঁচো, যেন কালই মারা যাবে”।

দুনিয়ায় যেমনটি মানুষ সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখে ঠিক বিশ্বাসীরাও পরকালীন সফলতার স্বপ্ন বুনে। আর তাদের  সফলতার গল্প কোরআনে সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন।

আল্লাহ বলেন-
کُلُّ نَفۡسٍ ذَآئِقَۃُ الۡمَوۡتِ ؕ وَ اِنَّمَا تُوَفَّوۡنَ اُجُوۡرَکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ فَمَنۡ زُحۡزِحَ عَنِ النَّارِ وَ اُدۡخِلَ الۡجَنَّۃَ فَقَدۡ فَازَ ؕপ্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর ‘অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা পাবে। (আলে ইমরানঃ১৮৫)

Everyone shall taste death. And only on the Day of Resurrection shall you be paid your wages in full. And whoever is removed away from the Fire and admitted to Paradise, he indeed is successful.

৫) আজ দিনটা আমার।
বিশ্বখ্যাত জার্মান কবি ও দার্শনিক জোহান গথে বলেছিলেন  “যদি কাল কিছু অর্জন করতে চাও, তবে আজ থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু করো”।

আজকে যে স্বপ্নটি তুমি দেখবে হয়তো সেটা কাল সম্ভাবনায় রুপ দিবে। যে স্বপ্ন এখনো দেখা শুরু করনি সেটা কিভাবে পূর্ণ করবে? কাজেই আগামীকাল কিছু করতে চাইলে আজকেই স্বপ্ন দেখা শুরু করতে হবে।

সেটাকে যদি আরেকটু সহজ করে বলি লেবানিজ কবি ও দার্শনিক কহলীল জিবরানের ভাষায়-

“গতকাল হল আজকের স্মৃতি, কিন্তু আগামীকাল হল আজকের”।

পরিশিষ্টঃ
শিক্ষাখাতকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের করনীয়ঃজবাবদিহিতা এবং আমানতদারিতা
মানুষ হিসেবে যেহেতু আমরা আশরাফুল মাখলুকাত ঠিক হিসেবের বেলাতেও আমরা তার দৃষ্টান্ত রেখে চলতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো হেরফের গ্রহণযোগ্য নয়।  পবিত্র কোরআনে সেই বিষয়টিকে হাইলাইট করে আগাম বার্তা দিয়ে বলেন-
وَ لَقَدۡ ذَرَاۡنَا لِجَہَنَّمَ کَثِیۡرًا مِّنَ الۡجِنِّ وَ الۡاِنۡسِ ۫ۖ  لَہُمۡ قُلُوۡبٌ لَّا یَفۡقَہُوۡنَ بِہَا ۫ وَ لَہُمۡ اَعۡیُنٌ لَّا یُبۡصِرُوۡنَ بِہَا ۫ وَ لَہُمۡ اٰذَانٌ لَّا یَسۡمَعُوۡنَ بِہَا ؕ اُولٰٓئِکَ کَالۡاَنۡعَامِ بَلۡ ہُمۡ اَضَلُّ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡغٰفِلُوۡنَ
আর অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে। তাদের রয়েছে অন্তর, তা দ্বারা তারা বুঝে না; তাদের রয়েছে চোখ, তা দ্বারা তারা দেখে না এবং তাদের রয়েছে কান, তা দ্বারা তারা শুনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট। তারাই হচ্ছে গাফেল। (আরাফ ১৭৯)
And surely, We have created many of the jinns and mankind for Hell. They have hearts wherewith they understand not, they have eyes wherewith they see not, and they have ears wherewith they hear not (the truth). They are like cattle, nay even more astray; those! They are the heedless ones.

জবাবদিহিতা যত নিরপেক্ষ হবে মানুষের উন্নতি তত দ্রুতগতিতে হবে। জবাবদিহিতার জায়গা যত স্বচ্ছ হবে তত বেশি বিশ্বস্ত এবং ভালবাসার মূর্ত প্রতিক হবে। আজ জবাবদিহিতার অবক্ষয় চলছে বিশ্বময়।  যার জন্য মানুষ পশুর চেয়েও অধম হয়ে গেছে। কাজেই মানুষকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে প্রকৃত মানুষরুপে, তাহলে জবাবদিহিতার বিকল্প নেই।

আমানতদারিতাঃ আমানতদারিতার মাধ্যমে মানুষ এবং পশুর তুলনা করা বোকামি নয়।
মানুষ হলে বুঝবে অবশ্যই হক্কটি আসলে কার। যদি নির্বোধ চতুষ্পদ জন্তু হয় তাহলে কার হক্ক কে খাবে সে কিভাবে বুঝবে!

মনুষ্যত্বের মাপকাঠি আসলে আমানতদারিতার মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়।
পবিত্র কোরআনে আমানতদারিতার বিষয়ে বলেন-
اِنَّ اللّٰہَ یَاۡمُرُکُمۡ اَنۡ تُؤَدُّوا الۡاَمٰنٰتِ اِلٰۤی اَہۡلِہَا ۙ وَ اِذَا حَکَمۡتُمۡ بَیۡنَ النَّاسِ اَنۡ تَحۡکُمُوۡا بِالۡعَدۡلِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ نِعِمَّا یَعِظُکُمۡ بِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ سَمِیۡعًۢا بَصِیۡرًا
নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে। আর যখন মানুষের মধ্যে ফয়সালা করবে তখন ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে কতইনা সুন্দর উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (নিসাঃ৫৮)
Verily! Allah commands that you should render back the trusts to those, to whom they are due; and that when you judge between men, you judge with justice. Verily, how excellent is the teaching which He (Allah) gives you! Truly, Allah is Ever All-Hearer, All-Seer.
লেখকঃ
Hm Tawhidul Islam Akbar
এইচএম তৌহিদুল ইসলাম আকবর
গণমাধ্যম কর্মী
Email: hmtawhidakbar@gmail.com

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
এপ্রিল ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মার্চ   মে »
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০