হাজারো ভয়, ভীতি, শঙ্কার মাঝে একটি আশাজাগানিয়া সুসংবাদ


প্রকাশের সময় :১২ মার্চ, ২০২০ ১০:০৫ : অপরাহ্ণ

আরিফ মাহমুদঃ “করোনা ভাইরাস নিয়ে শংকিত না হওয়ার দশটি কারন” –
এই বিশেষ প্রতিবেদনটি করেছে একটি নির্ভরযোগ্য আমেরিকান টেলিভিশন প্রতিষ্ঠান। আমি কোনো হেল্থ এক্সপার্ট না। শংকিত না হওয়ার জন্য ওদের দেয়া দশটি কারণ আপনাদের কাজে লাগবে মনে করে সরাসরি অনুবাদ করে দিলামঃ

১) করোনা ভাইরাস কি এটা এখন আমরা জানি।
১৯৮১ সালের জুন মাসে এইডসের প্রথম কেসের পর প্রায় দুই বছর লেগেছিলো মানুষের মৃত্যুর কারণ হওয়া এই এইচআইভি ভাইরাসটি সনাক্ত করতে। কিন্তু কোভিড ১৯ প্রথম কেসের সংবাদ পাওয়া যায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখে। আর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই মানে জানুয়ারীর ৭ তারিখেই ভাইরাসটি কি এটা আইডেন্টিফাইড হয়ে যায় এবং দশম দিনে এর জিনোম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। আমরা ইতোমধ্যেই জেনে গেছি যে- এটা গ্রুপ ২বি’র সারস ফ্যামিলিভূক্ত নতুন করোনাভাইরাস যাকে SARSCoV2 বলি। আর রোগটিকে বলা হয় COVID-19। জেনেটিক এনালাইসিস এর মাধ্যমে এর ন্যচারাল অরিজিন সম্পর্কে জানা গেছে। এর মিউটেশন রেইট খুব বেশী না।

২) ভাইরাসের জিনোম, অরিজিন সম্পর্কে জানার পর এখন আমরা ভাইরাসটি কিভাবে ডিটেক্ট করতে হয়- তাও জানি।
জানুয়ারি মাসের ১৩ তারিখ থেকে একে ডিটেক্ট করা একেবারেই সহজ হয়ে গেছে।

৩) যেখানে এই ভাইরাসের উৎপত্তি সেই চায়নার পরিস্থিতি ক্রমশঃই উন্নতির দিকে।
চায়নায় ব্যাপকভাবে সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করার যে কার্যক্রম ওরা গ্রহন করেছিলো তার সুফল ওরা পেতে শুরু করেছে। ফলে গত কয়েক সপ্তাহে চায়নায় নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী একেবারেই কমে গেছে।

৪) আক্রান্ত ৮০% শতাংশ রোগীর অবস্থা একেবারেই মাইল্ড।
অনেকেই বিনা চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। ১৪% রোগির নিউমোনিয়া বা ৫%রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যু হারের একজেক্ট রেট কত বলা যাচ্ছেনা। তবে যে রেট বলা হচ্ছে এটা তার চেয়ে অনেক কমই হবে।

৫) আক্রান্ত রোগি সুস্থ হয়ে ওঠছে।
অধিকাংশ ইনফেক্টেড মানুষ সম্পূর্নরূপে এখন সুস্থ। সুস্থ হওয়া রোগির সংখ্যা মারা যাওয়া মানুষের তুলনায় প্রায় ১৩ গুন বেশী এবং এই হার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে।

৬) শিশুদের একেবারে হচ্ছেনা বললেই চলে।
বয়স চল্লিশের নীচে মৃত্যু হার মাত্র ০.২%। আর শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগীর সিম্পটম এতোই কম যে একে গণনার মধ্যেই নেয়া হয়নি।

৭) এই ভাইরাসকে ধোঁয়ে মুছে একেবারে শেষ করে ফেলা যায়।
এই ভাইরাসকে একেবারেই নিষ্ক্রিয় করা যায় ইথানল, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের মিশ্রণে। ভালো করে সাবান দিয়ে ধোঁলেই এর
রোগসংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৮) গ্লোবালি বিজ্ঞানীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
ভ্যাকসিন, ট্রিটমেন্ট, এপিডিমিয়োলজি, ডায়াগনোসিস এবং ক্লিনিকাল আসপেক্টস ইত্যাদির ওপর প্রচুর কাজ হচ্ছে। প্রায় ৭০০ চিকিৎসা বিজ্ঞানীর আর্টিকেল লেখা হয়েছে। সারস ভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রায় বছর লেগে গিয়েছিলো এর অর্ধেকের কম আর্টিকেল পাবলিশড হতে।

৯) ভাইরাস মোকাবিলা করার ভ্যাকসিন প্রটোটাইপস তৈরীর কাজ ও শুরু করে দিয়েছে আটটি প্রজেক্ট গ্রুপ।
University of Queensland, in Australia এর ভ্যাকসিন গ্রুপ অলরেডি ঘোষনা করেছে তারা প্রটোটাইপস তৈরি করে ফেলেছে এখন শুধু মানুষের শরীরে টেস্ট করাটাই বাকি আছে।

১০) এন্টিভাইরাল ট্রায়াল ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে
৮০টির বেশি ক্লিনিকাল ট্রায়ালে করানাভাইরাস ট্রিটমেন্টের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। যে সব পরীক্ষা নিরীক্ষায় অতীতের অনেক ভাইরাস যেমন সারস/ইবোলার একেবারে কার্যকরী প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে এবং এখানেও শীঘ্রই হবে।

১৯১৮ সালে ফ্লু পেনডেমিকে মাত্র ২৫ সপ্তাহে ২৫ মিলিয়ন মানুষ মারা গিয়েছিলো। চিকিৎসা বিজ্ঞান তখন অনেক পিছিয়ে ছিলো। কিন্তু বিজ্ঞান এখন এর চেয়ে অনেক বেশি উন্নত, বিজ্ঞানীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী প্রস্তুত। কাজেই ভয়ের কিছু নেই।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
মার্চ ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ফেব্রুয়ারি   এপ্রিল »
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১