করোনা ভাইরাসের অমূল্য দশটি শিক্ষা। কিন্তু এই শিক্ষাগুলো কি আমরা গ্রহণ করবো?


প্রকাশের সময় :১১ মার্চ, ২০২০ ৮:৫৭ : অপরাহ্ণ

আরিফ মাহমুদঃ ফেইজবুক পোস্ট থেকে সংগ্রহিত ‘করোনা ভাইরাসের অমূল্য দশটি শিক্ষা। কিন্তু এই শিক্ষাগুলো কি আমরা গ্রহণ করবো?

১) জাতি, বর্ণ, ধর্ম, গোত্র, ভূখন্ড, সীমারেখা, পতাকা, মানচিত্র, মন্দির, মসজিদ, গীর্জা, প্যাগোডা এসবের কোনটিই একে অপরের শত্রু নয়। মানুষের কমন শত্রু হচ্ছে- অসুখ, ব্যধি। সে জাত-পাত , সাদা-কালো এসবের কিছুই চেনেনা।

২) প্রকৃতির মানুষের দরকার নেই। কিন্তু প্রকৃতি মানুষের দরকার। শুধু প্রকৃতি হলে হবেনা। এটাকে হতে হবে বিশুদ্ধ প্রকৃতি।

৩) প্রতি বছর শুধু চায়নায় প্রায় ১ লক্ষ মানুষ বায়ূ দূষনে মারা যায়। হাজারো শিশুকে জন্মের পরপরই বিশুদ্ধ অক্সিজেন দিতে হয়। গত কয়েক সপ্তাহে নবজাত শিশুর জন্য বাড়তি অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়নি। কারণ- কলকারখানা, মিল, ফ্যাক্টরি, গাড়ি ইত্যাদি নানা রকমের ফুয়েল চালিত জিনিস বন্ধ থাকায় বাতাসে কার্বন ইমিশন কমে এসেছে। পেট্রোল পোড়া গন্ধ নেই, ধোঁয়ার বিষাক্ত কার্বন নেই। বাতাসে নেমে এসেছে বিশুদ্ধ সজীবতা। প্রকৃতি মানুষের বন্ধু হয়ে মানুষের বাঁচার পথ প্রকৃতি নিজেই দেখিয়ে দিয়েছে।

৪) বিশ্রামের প্রয়োজন। কাজ মানুষকে মেরে ফেলেনা। যেমন সত্যি। আবার শুধু বিরামহীন কাজ করে গেলে- জীবন থেকে বিশ্রাম না নিলে- জীবনই মানুষকে চিরদিনের জন্য বিশ্রাম পাঠিয়ে দেয়। ইতালীর কয়েকটি শহর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় – অনেকদিন পর একই খাবার টেবিলে- দেখা মিলেছে- পিতা-পুত্রের, মাতা-কন্যার। এমন স্বর্গীয় পরিবেশ গৃহে অনেকদিন আসেনি।

৫) অনেকদিন আগে আমি একটা বড় গল্প পড়েছিলাম। গল্পটির মুল কথা হলো। একজন ব্যক্তির খুব সুন্দর সবুজ লন ছিলো। কিছুদিন পর দেখা গেলো- সেই সবুজ লনে অনেকগুলো আগাছার জন্ম হয়েছে। উনি নানা রকমের ঔষধ দিলেন- আগাছা বন্ধ করার জন্য। কিন্তু কাজ হলোনা। তারপর একজন বিজ্ঞ লোক পরামর্শ দিলেন- আপনার আশেপাশের বাড়ীগুলোতে গিয়েও আপনি ঔষধ দিয়ে আসুন। কারণ- ঐ সব লনে যদি আগাছা হয়। সেই আগাছার রেণু বাতাসে ভেসে আপনার লনে আসবেই। সুতরাং ওদের লনগুলো আগাছা মুক্ত না করলে আপনার লনও আগাছা মুক্ত হবেনা। সুন্দর সবুজ সতেজ হবেনা। এই ভাইরাস শিখিয়ে দিয়েছে শুধু নিজে বেঁচে থাকলেই, সুস্থ থাকলেই হবেনা। অন্যকে নিয়েই বাঁচতে হবে। সবাইকে নিয়েই সুস্থ থাকতে হবে।

৬) মানুষ মাত্রই দারুণভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। এটা হতে হবে- বাহ্যিক এবং আত্মিক পরিষ্কার থাকা। ইসলামেও বলা হয়েছে- পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ঈমানের অংগ। শুধু এই বাক্যটি মেনে চললে দেখবেন, আপনার নিজের শরীরে, পরিবেশের, সমাজের অনেক সমস্যার সমাধান অটোমেটিকলি হয়ে গেছে। যার যার ক্ষেত্রে সবাই পরিষ্কার থাকলে আপনার নর্দমায় আবর্জনা হবেনা, মশা, মাছি হবেনা। ঘর -দরজা- চারপাশ পরিষ্কার থাকলে আপনার মন-শরীর দুটোই প্রানবন্ত থাকে। আর আত্মিক পরিষ্কার থাকলে- আপনি ঘুষ খাবেন না, দুর্নীতি করবেন না, মানুষকে ঠকাবেন না, কাউকে হিংসা, ঘৃণা করবেন না। এক লাইনেই কত বড় শক্তি আর কত সুন্দর ব্যবস্থা রাব্বুল আলামীন আমাদের দিয়েছেন -তা একবারও কি উপলব্ধি করেছেন?

৭) ভাইরাস দেখিয়ে দিয়েছে- যেটা তোমার দরকার নেই সেটা নিয়ে নাড়াচাড়া করতে যেওনা । তোমার ঘোড়া দরকার। কিন্তু ঘোড়ার লালা তোমার দরকার নেই। বাদুড় তোমার গৃহে আসেনা। তুমিও বাদুড়ের গৃহে যেওনা। প্রকৃতির ব্যলেন্সকে তুমি নষ্ট করে দিওনা। কুকুর, বিড়াল গৃহপালিত পশু এদেরকে প্রাণভরে ভালোবাসো। এদের দুঃখে কাতর হয়ো। আদর করো। যত্ন করো। সব ঠিক আছে। কিন্তু কুকুর -বিড়ালকে একেবারে চুমু খেতে যেয়োনা। তুমি নিজের বুড়ো বাপ-দাদাকে কবে শেষবার চুমু খেয়েছিলে -তোমার মনে আছে? কিন্তু কুকুর -বিড়ালকে চুমু না খেলে তোমার ঘুম আসেনা। কুকুর -বিড়ালের লালায় প্রায় চারশত থেকে পাঁচশত রকমের ব্যাকটেরিয়াল স্পেসিস থাকে। ওপেনকলেজ.ইনফোতে বলা আছে জার্ম ট্রান্সমিশন মানুষ থেকে কখনো পশুতে যায়না। কিন্তু পশু থেকে মানুষে যাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯৯%।

৮) যান্ত্রিক জীবনে বিরামহীন কাজের চাপে বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে নিজের আপনজনকে দেখার সুযোগ যাদের হয়নি- তাদের বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে আপনজনের পাশে বসে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে। চায়নার অসংখ্য বৃদ্ধাশ্রমে গত কয়েক সপ্তাহে স্বজনের আনাগোনা বেড়ে গেছে।

৯) উন্মত্তের মতো শুধু সম্পদের পেছনে ছুটে চলোনা মানুষ। একটু দাঁড়াও। মিলিয়ন ডলারের সিইও’র আয় মুহুর্তেই শত ডলারে নেমে আসতে পারে- এক অদেখা শত্রুর মাধ্যমে।

১০) নিজেকে নিয়ে সবসময় অহংকার, দম্ভ করোনা। সুপার পাওয়ার মুহর্তেই সুপার জিরো হয়ে যেতে পারে- এই কথাটি মানুষ ভুলে যেওনা।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
মার্চ ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ফেব্রুয়ারি   এপ্রিল »
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১