ঘানায় মৃতদের সমাহিত করার অদ্ভুত সব কফিন


প্রকাশের সময় :৭ মার্চ, ২০২০ ১:৩০ : অপরাহ্ণ

প্রজন্ম ভ্রমণ প্রতিবেদকঃ 

 

ফুটবলের দেশ হিসেবে পরিচিত আফ্রিকার ঘানা। বৈচিত্রময় জীবনধারা ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ দেশটিতে অনেক অদ্ভুত নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে মৃতদের সমাহিত করার নিয়মে অবাক বিশ্ববাসী।

পেশা ও জীবনধারার ওপর ভিত্তি করেই দেশটির মৃতদের অদ্ভুত নিয়মে সমাহিত করা হয়। পেশার প্রতি সম্মান জানিয়ে পেশা সংশ্লিষ্ট কফিনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তিরা সমাহিত হন। ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য ঘানার সমাহিত করার অদ্ভুত সব কফিন তুলে ধরা হচ্ছে।

একজন সঙ্গীত শিল্পী সারা জীবন মাইক্রোফোন, গিটার, বাদ্যযন্ত্রকে ভালোবাসেন। ঘানার লোকেরা শিল্পীর মৃত্যুর পর মাইক্রোফোন, গিটার আকৃতির কফিনে সমাহিত করা হয়।

কুকু থেকে উৎপাদন হওয়া চকলেট বেশ জনপ্রিয়। প্রিয় খাবার উৎপাদন করতে অনেকে জীবন পার করে দেন। যদি কুকু চাষি হিসেবে কারও মৃত্যু হয়, তবে তাকে কুকু আকৃতির কফিনে সমাহিত করা হয়।

স্থিরচিত্র বা ভিডিও ধারণ করা অনেকের শখের পেশা। ক্যামেরা বা ভিডিও ক্যামেরা হাতে জীবন কাটিয়ে দেন অনেকে। সেই লোকদের মধ্যে কেউ মারা গেলে ক্যামেরা বা ভিডিও ক্যামেরা আকৃতির কফিনে সমাহিত করা হয়।

মানবজীবন বৈচিত্রময়। কেউ ঠাণ্ডা মেজাজের হন, কেউবা রাগী হন। যারা সারাজীবন রাগ করতে থাকেন। মৃত্যুর পর তাদের লাল মরিচের আকৃতির কফিনের ভেতর সমাহিত করা হয়।

সারাজীবন জমি, বাড়ি কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করেন রিয়েল এস্টেস ব্যবসায়ীরা। মৃত্যুর পর পেশার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানে বিলাসবহুল বাড়ির আকৃতির কফিনে তাদের সমাহিত করা হয়।

ঘানায় শামুক আহরণ একটি জনপ্রিয় কাজ। শামুক আহরণকারীর মৃত্যু হলেই শামুক আকৃতির কফিনে সমাহিত করা হয়।

ঘানায় কাঠুরেদের বেশ কাজ রয়েছে। হাতে কুড়াল নিয়ে কাঠ সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন কাঠুরিরা। তাই তাদের মৃত্যু হলেই কুড়াল বা গাছের আকৃতির কফিনে সমাহিত করা হয়।

যুদ্ধা বা সেনাদের পেশার প্রতি সম্মান জানিয়ে বন্দুক, ট্যাংক আকৃতির কফিন প্রস্তুত রাখা হয়। দেশের জন্য জীবন দেয়া যুদ্ধা বা মৃত সেনাদের বন্দুক, ট্যাংক আকৃতির কফিনে সমাহিত করা হয়।

ঘানায় জেলে পেশার বেশ কদর রয়েছে। মাছ শিকার করে দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করেন তারা। সেই সব পেশার মানুষের মৃত্যু হলেই চিংড়ি, কাতল মাছ বা বিভিন্ন আকৃতির মাছের আকৃতির কফিনে তাদের সমাহিত করা হয়।

মাঝি আর নৌকা একে অপরের পরিপূরক। মাঝি নেই মানে নৌকা অচল। তাই নৌকার আদলে কফিন তৈরি করে মাঝিদের সমাহিত সম্পন্ন করা হয়।

ঘানার সিংহভাগ মানুষ খিস্ট্রান ধর্মের অনুসারী। সেখানে ধর্মযাজকদের কদর খুব বেশি। কোনো ধর্মযাজকের মৃত্যু হলে বাইবেল আকৃতির কফিনে সমাহিত করা হয়।

জুতা সেলাই বা বানানো ঘানার অন্যতম পেশা। মৃত জুতার কারিগরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এডিডাস, নাইকো, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতা ও সেন্ডেলের আকৃতির কফিনে সমাহিত করা হয়।

আসবাবপত্রের কারিগররা কঠিমিস্ত্রি নামে পরিচিত। ঘানায় পেশাটির বেশ সম্মান রয়েছে। কোনো কাঠিমিস্ত্রি মারা গেলে হেক্সো বা করাত আকৃতির কফিনে তাকে সমাহিত করা হয়।

মেকানিকের মাধ্যমে যন্ত্রাংশ মেরামত করা হয়। আধুনিক ঘানায় মেকানিকের চাহিদা তুঙ্গে। বিভিন্ন টুলসের সহায়তায় যন্ত্রাংশ মেরামত করেন মেকানিকরা। তাই তাদের মৃত্যুর পর টুলস আকৃতির কফিনে সমাহিত করা হয়।

দেশের অর্থনীতিতে বেশ ভূমিকা রাখেন ঘানার ব্যবসায়ীরা। তাই তাদের মৃত্যুর পর দোকানের ডেস্ক কফিনে সমাহিত করা হয়।

দেশে পরিচালনায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীরা জড়িত থাকেন। তাই ঘানার কোনো রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী মারা গেলে তাদের বাঘ বা ঈগল আকৃতির কফিনে সমাহিত করা হয়।

উড়জাহাজকে ভালোবাসেন পাইলটরা। ঘানায় পাইলটদের মৃত্যুর উড়জাহাজ আকৃতির কফিনে সমাহিত করা হয়। তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে কাজটি করা হয়।

ঘানায় যারা মার্সিডিজ গাড়ির মালিক, তাদের মৃত্যুর পর মার্সিডিজ গাড়ির আকৃতির কফিনে সমাহিত করা হয়। যাতে তাদের বিলাসবহুল জীবনের স্মৃতিচিহ্ন সঙ্গে নিতে পারে।

 

এছাড়া আরো কয়েক ধরনের কফিন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরুষ, নারী, পেয়াজ, মদের বোতল, পেপসির বোতল, জাহাজ আকৃতির কফিন। এসব কফিনের ভেতরে আরামদায়ক ফোম ও চকচকে সিল্কের কাপড় ব্যবহার করা হয়। তাদের বিশ্বাস, এভাবে সমাহিত করা হলেই পরকালীন জীবন সুখের হবে।

এদিকে নিজের আয় করা অর্থ থেকে কফিন বানাতে হয়। সবার পক্ষে পছন্দ মতো কফিন বানানো সম্ভব হয় না। কারণ প্রতিটি কফিন বানাতে কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়।  যারা দৈনিক ২৪০ টাকা আয় করেন, তাদের জীবনে কফিনের ব্যয় জোগাড় করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
মার্চ ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ফেব্রুয়ারি   এপ্রিল »
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১