মুজিব জন্মশত বার্ষিকী ও লাঞ্ছনায় মুক্তিযোদ্ধা


প্রকাশের সময় :৬ মার্চ, ২০২০ ৭:৫০ : অপরাহ্ণ

অতিউৎসাহীদের লাঞ্ছনায় মুক্তিযোদ্ধা!

১৭ ই মার্চ! পুরো বাঙালি জাতি গৌরবের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দিনটি পালন করবে নিঃসন্দেহে। যাদের চুলকানি আছে তারাও জোর করে পালন করবে। আর আমি বলবো- জোর করে নয়, লাথি দিয়ে পালন করাতে বাধ্য করা উচিত। কারণ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও যারা বঙ্গবন্ধুকে মেনে নিতে পারে নি তাদের জন্য ওনার স্বাধীনতা চাওয়াটাই ভুল ছিল!

সারাদেশে আবার অতি উৎসাহীরা এমন সব কাজ শুরু করে দিয়েছে, যেন হয়রান হয়ে পড়েছে যে জাতিকে বোঝাতে বঙ্গবন্ধু যেন তার কাঁধের উপর এসে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলো!

১ লা মার্চের প্রথম আলোতে দেখা গেলো মন্ত্রীকে বরণ করছে সবাই বঙ্গবন্ধুর মুখোশ পরে! ৫ ই মার্চের খবর, শিক্ষা বোর্ডের টিস্যু বাক্সের গায়ে মুজিব শতবার্ষিকীর লগো! আরও কতো কিছু যে করছে, “বঙ্গবন্ধুর প্রিয় খাদ্য” বলে বই করে দিনেদুপুরে তারকা বনে, কেউ আবার আস্ত একটা অভিধান নিয়ে আসলো নাম
— “বঙ্গবন্ধু অভিধান”! জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক টাইটেল লাগিয়ে কেউ বাজারে ছেড়ে দিলো- “বঙ্গবন্ধুর প্রিয় খেলা সমূহ”! কারও ব্যবসায় মন্দ, যায় যায় অবস্থা, বুদ্ধি খাটিয়ে ব্যানার লাগিয়ে দিল—
এ ব্যবসায়ের লভ্যাংশের ১ অংশ যাবে বঙ্গবন্ধুর জন্য নিবেদিত স্থানীয় একটা ক্লাবে! এসময় যদি ধরেন নির্বাচন এর সময়, তাহলে জনৈক রাজনীতিবিদের বুলি হত — মুজিব শতবার্ষিকী না মানলে জরিমানা, তারপর সেটা নিয়ে ভাষাশহীদরেরকে মুক্তিযোদ্ধা বলে ২-৩ মিনিট বক্তব্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে বৃদ্ধাদের জোরজবরদস্তি করে ভোট আদায় করতো! আরও কত যে ফন্দি আছে এদের ভালোবাসা দেখলেই মাথায় আসে, বঙ্গবন্ধুকে কতো পদ্ধতিতে ভালোবাসা যায়!

কিন্তু ওনার আদর্শ, ওনার রাজনৈতিক জীবন, সামাজিক দৃষ্টিকোণ, অর্থনৈতিতে অবদানের জন্য যুব সমাজকে ওনার মুর‍্যাল না বানিয়ে, কাজের কথা বলেছেন সেটা বোধয় প্রতি জাতীয় দিবসে শোনা হলেও আমল করা হয় না! তা না হলে এতো ভুল আবেগের দেখা কেমনে মেলে? দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হওয়া ব্যক্তিটিই ওনাকে উৎসাহী হয়ে মাথা ঠুকে আসে, এদের কাছে পরবর্তীতে ওনার মর্যাদা নিয়ে আমি সন্দিহান! এরাই আবার যে কোন ধরণের ইতিহাস বিকৃতিতে জুতা বগলে নিয়ে দৌড়ে আসবে। অন্তত এদের থেকে সাবধান হওয়া যায় এ সময়টাতে।

এবারে একটি হিশেবে আসি, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, সম্মান হয়তো আপনি ঠিকমতো দিতে পারছেন না, কিন্তু তাদেরকে অসম্মান করার কোন সুযোগ আপনার নাই। বঙ্গবন্ধুর কথার সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের কথা চলে আসে।কারণ ওনার ডাকে জড়ো হয়ে মেজর জিয়ার ঘোষণায় দেশটা স্বাধীন করেছে বলেই আমরা আবোল-তাবোল চাটুকারিতা করেই যাচ্ছি!

চকরিয়ার মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আনোয়ার হুসাইন বাঙালী, যুদ্ধ করেছিলেন দেশের জন্য। খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা,বীউত্তম। গতকাল রাতে ওনার বাড়িতে পুলিশ অতর্কিত কারও ইন্ধনে যে নৃশংস তান্ডব চালিয়েছে আমি পত্রিকার হেডিং দেখে থ! তাই খবর নিয়ে জানলাম — সত্যতা আরও ভয়াবহ! বাড়িটির তিনতলা পর্যন্ত ভাংচুর করেছে! পুলিশের সদস্যরা মেয়েদের গায়ে হাত তুলেছে এবং বিধবা মুক্তিযোদ্ধা স্ত্রী মিসেস বাঙ্গালী-কে ও মারধর করেছে! ওনার ছোট ছেলেকে মেরে হাত ভেঙে দিয়েছে! কোন কারণ ছাড়াই। অবাক হলাম। সামনে আসছে ২৬ শে মার্চ। এ দিনটি আমরা পালন করি কিন্ত দিনটি ঐ পরিবারের রক্তে এবং স্বাধীনতায় কতটুকু মিশে আছে তা ওনারাই ঠিক বলতে পারবেন। এই যে অতিউৎসাহী পুলিশ! আপনি কি দিয়ে ব্যাখ্যা করবেন এসব? সর্বশেষ খবরে জানতে পারলাম ১০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়— ওনার এবং পরিবারের দেশের জন্য যুদ্ধ করার যে গৌরব সেটি যে আপনার তোষামোদে নষ্ট হয়েছে, মেনে নিবেন কখনো?

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
মার্চ ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ফেব্রুয়ারি   এপ্রিল »
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১