ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার চুল ধরে মারধর করে: ঢাবি শিক্ষক


প্রকাশের সময় :৮ জানুয়ারি, ২০২০ ১১:০৬ : পূর্বাহ্ণ

অধ্যাপক জুবাইদা নাসরিন । ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অধ্যাপক জোবায়দা নাসরিন। তিনি তার লিখিত অভিযোগে জানান, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে তাকে মারধর করা হয়।
জোবায়দা নাসরিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। এছাড়া তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ হলের প্রাধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
জোবায়দা নাসরিন তার অভিযোগে লিখেন, গত ৫ জানুয়ারি আমি হলের প্রাধ্যক্ষ ড. জাকিয়া পারভীন ম্যাডামের নির্দেশে হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মারামারি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য হলে যাই। সেখানে এক ছাত্রীকে মারধর করে তার কক্ষ থেকে বের করা হচ্ছিল। এসময় তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে জড়িয়ে ধরি। ঐ ছাত্রীকে নিয়ে হলের গেটে আসার চেষ্টা করলে হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাকে মারধর করে। আমার চুল ধরে টেনে ফেলে দিয়ে মারধর করে। গালাগালি করে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, গত রবিবার শাড়ি বিতরণ ঘিরে হলের ভেতরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে মারামারির ঘটনা ঘটে। ছাত্রীদের মারামারি থামাতে গিয়ে তাদের হাতেই লাঞ্ছিত হন শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন।

এদিকে অধ্যাপক জোবায়দা নাসরিনের অভিযোগ অস্বীকার করে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রওনক জাহান রাইয়ান বলেন, এটা সম্পূর্ণ একটা ভিত্তিহীন কথা। এর প্রমাণ তিনি দিতে পারবেন না।

অভিযোগের বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকিয়া পারভীন বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত করে সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সে দিনের ঘটনার কথা বলে হলের ছাত্রীরা জানান, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগের রাতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে নেতাকর্মীদের শাড়ি বিতরণ করেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রওনক জাহান ও তার অনুসারীরা। অনেককে শাড়ি দেওয়া হলেও কয়েকজন শাড়ি না পেয়ে চলে যান। পরে সালসাবিল খান ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শাড়ি তাদের কক্ষে দিয়ে আসেন।

কিন্তু না জানিয়ে শাড়ি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন রওনক। এ নিয়ে দুই পক্ষে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর রবিবার সন্ধ্যায় সালসাবিল খান নিজের কক্ষে গিয়ে দেখতে পান, তার কক্ষের সব জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন রওনকের অনুসারীরা এই ঘটনা ঘটান।

এরপর সন্ধ্যার কিছু পরে ঐ ঘটনার প্রতিবাদে অনুসারীদের নিয়ে রওনকের কক্ষের দিকে যাচ্ছিলেন সালসাবিল। এ সময় রওনকের অনুসারীদের সঙ্গে সালসাবিলের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান আবাসিক শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন।

 

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
জানুয়ারি ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ডিসেম্বর   ফেব্রুয়ারি »
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১