পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২২ বছর পূর্তিতে আমাদের প্রত্যাশা ও মূল্যায়ণ


প্রকাশের সময় :২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৬:০১ : অপরাহ্ণ

সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা নদী মাতৃক দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এই বাংলা মায়ের ৫০৯৩ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে এক অভিন্ন এবং অখন্ড- অঞ্চল তথা পাহাড়ের রাণী খ্যাত পার্বত্য চট্টগ্রাম। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে বাংলা মায়ের এক-দশমাংশ এলাকা জুড়ে প্রাকৃতিক সুন্দর্যের লীলাভূমি, সুউচ্চ পাহাড়, ঝর্নার কলকল ধ্বনি, চেঙ্গী, মাইনী, কাচালং, মাতামুহুরী, রাইনখিয়াং, কর্ণফুলী ও সাঙ্গু নদীর উর্বর সমভূমি, পাহাড়ী উপত্যকা, সীমাহীন বিস্তৃত নীলাকাশ, সবুজের গালিচা, বনভূমির নিস্তদ্ধতা, বিল, ঝিল, হৃদ নদীতে দেশি-বিদেশী পাখপাখালীর উপস্থিতি, পাহাড়-বন বনানীতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর অবস্থান পুরো পার্বত্য ভূমির পরিবেশ কে করে তুলেছে মনোমুগ্ধকর এক অনাবিল ভাল লাগায়, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, শুধুমাত্র উপলদ্ধিই করা যায়। উত্তরে খাগড়াছড়ি মাঝখানে রাঙ্গামাটি এবং দক্ষিনে বান্দরবান এই ৩টি পার্বত্য জেলার সম্বন্বয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম, এবং পশ্চিমে ভারতের ত্রিপুরা উত্তর ও পূর্বে মিজুরাম, এবং দক্ষিনে মায়ানমারের আরাকান প্রদেশ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংখ্যা ৭/৮ লক্ষ্য বাঙালিসহ চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, মুরং পাংখু, বোম ইত্যাদি ১৩টি উপজাতি মিলে সর্বমোট ১৬/১৭ লক্ষ মাত্র। কিন্তু পাহাড়ের রাণী ক্ষ্যাত পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ভূমিতে আজ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ১৯৭৫ সাল থেকে এ অঞ্চলে ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় চাকমা সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে দেশ বিরোধী সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (জেএসএস) এর সশস্ত্র শাখা তথা শান্তি বাহিনী এবং ইউপিডিএফ এর আক্রমণ ও নির্যাতনে এ যাবত প্রায় ৩৫,০০০ হাজার নিরীহ বাঙালি হত্যার শিকার হয়, অব্যাহত গতিতে চলছে হত্যা, খুন, গুম, অপহরণ। বন্ধ হচ্ছে না সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য, মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পার্বত্য বাঙালিদের কে জাতিগত ভাবে নির্মুল করার এবং পার্বত্যাঞ্চলকে বাঙালি শূন্য করা লক্ষেই এ সকল অপকর্ম ও মানবতা বিরোধী গণ হত্যা স্বাধীন বাংলাদেশে পরিচালনা করা হয়।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী সরকার গঠিত পার্বত্য বিষয়ক জাতীয় কমিটির পক্ষে সংসদের চীফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং পার্বত্য জনগনের পক্ষে পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদল জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান সন্তু লারমা পার্বত্য চুক্তি সাক্ষর করেন। এখানে বলে রাখা ভাল যে, সন্তু লারমা পার্বত্য জনগনের প্রতিনিধি সেজে তাদের পক্ষে চুক্তিতে যে সাক্ষর করেছেন তার সে পরিচয় মিথ্যা, ভিত্তিহীন। জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান সন্তু লারমা পার্বত্য চট্রগ্রামে অনুষ্ঠিত কোন প্রকার নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে তার জনপ্রিয়তা যাচাই করেননি, অর্থাৎ সে কোন নির্বাচিত জন প্রতিনিধি নয় । ৮ লক্ষ পার্বত্য বাঙালির তো নয়ই , অন্যদিেেক পার্বত্য চট্রগ্রামের ১৩ টি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠির মধ্যে শুধুমাত্র চাকমা সম্প্রদায়ভূক্ত হবার কারণে অন্য ১২টি উপজাতি গোষ্ঠীর ও সে প্রতিনিধি নয়। অধিকন্তু চাকমাদের মধ্যে ইউপিডিএফ, জেএসএস (সংস্কার) ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক ইত্যাদি বেশ কয়েকটি দল সন্তুলারমার নেতৃত্ব মানে না, বিধায় সন্তু লারমা চাকমা সম্প্রদায়ের ও একক প্রতিনিধি নয়। মূলত ভারতের প্রশিক্ষিত শান্তি বাহিনীর নেতা হওয়া ছাড়া কোন যে․ ক্তিক বিচারেই সন্তু লারমা গোটা পার্বত্য চট্রগ্রামের ১৬ লক্ষ্য অধিবাসীর বেধ প্রতিনিধি নয়।

 

তাহলে প্রশ্ন হলো কোন যে․ক্তিক বিচারে সন্তু
লারমাকে পার্বত্য চট্রগ্রামের প্রতিনিধি
হিসেবে তার সাথে পার্বত্য চুক্তি করা হয়েছে?
এবং গোটা পার্বত্য চট্রগ্রামের শাসনকর্তা
হিসেবে তাকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে ? সমতল
ভূমির নির্বাচিত একজন উপজেলার
চেয়ারম্যানের সমকক্ষ ক্ষমতা পাওয়ার যোগ্য ও
সন্তু লারমা নয়। তাই তাকে কোন বিচারেই বিরাট
নেতা ভাবার কোন যে তিক্ততা নেই। সুতরাং
পার্বত্য চুক্তিতে পার্বত্য চট্রগ্রামের প্রতিনিধি
হিসেবে উল্লেখিত তার পরিচয় মিথ্যা এবং
ভিত্তিহীন।
খুনি সন্তু লারমা ও উপজাতী সশাস্ত্র সন্ত্রাসী
গোষ্ঠী জেএসএস এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য হলো পার্বত্য
চট্রগ্রামে স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠা করা। পার্বত্য
চট্রগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে
সক্ষম না হলেও সেখানে বাংলাদেশ সরকারের
সার্বভে․ম ক্ষমতা বিলোপ করা। পার্বত্য অঞ্চল
থেকে নিরীহ পাবত্য বাঙালীদেরকে অস্ত্রের
মুখে উৎখাত করে পার্বত্য চট্রগ্রামকে একমাত্র
উপজাতীয়দের আবাস সিএইচটি জুম্মল্যান্ড
হিসেবে পরিণত করা। এসব দেশ বিরোধী উদ্দেশ্য
বাস্তবায়নে উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা
পরিচালনা করে, বাংলাদেশের ইতিহাসের
বর্বরতম জাতিগত নির্মুল অভিযান। উপজাতীয়
সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তথা জেএসএস খুনি সন্তু
লারমার নেতৃত্বে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে
প্রশিক্ষণ লাভ করে, অস্ত্র গোলাবারুধ ও আশ্রয়
ব্যবহার করে গোঠা পার্বত্য তিন জেলায়
বাঙালী নিধন শুরু করে। নিরস্ত্র ও নিরিহ
বাঙালীদের বিভিন্ন পাড়ায় আক্রমন করে।
গ্রামের সব বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
নির্বিচারে হত্যা করে গ্রামের আবাল বৃদ্ধ
বনিতাকে, গর্ভবর্তী মায়েদের পেটে বেয়োনেট
দিয়ে আঘাত করে সন্তানসহ মাকে হত্যা করে,
ধর্ষনের শিকার হয় অসংখ্য পার্বত্য বাঙালী
নারী। গুলি করে কুপিয়ে হত্যা করে প্রায় ৩৫০০০
(পঁয়ত্রিশ হাজার) এর বেশি নিরিহ পার্বত্য
বাঙালি বনি আদমকে। আহত করে কয়েক হাজার
বাঙালিকে এবং অস্ত্রের মুখে শত শত বাঙালি
কৃষক, কাঠুরিয়া জেলে ও ব্যবসায়ীকে অপহরণ
করে মুক্তিপণ আদায় করে। পার্বত্য চট্রগ্রামের
প্রায় সকল দোকান মালিক, কৃষক, জেলে, অফিস
আদালতের কর্মারী, ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের
নিকট থেকে চাঁদা ও মুক্তি পণ হিসেবে শত সহস্র
কোটি টাকা আদায় করে উপজাতি সন্ত্রাসীরা।
সন্ত্রাস বিরোধী ও দেশ প্রেমিক কয়েক শত
সাধারণ উপজাতী নাগরিককেও খুনি সন্তু লারমাও
জেএসএস হত্যা ও নির্যাতন করে। যেমন উপজাতি
নেতা চাবাইমগ, উরিমহন ত্রিপুরা, কিনামোহন
চাকমা, হেডম্যান বংকিম দেওয়ান, শান্তিময়
দেওয়ান,চুনিলাল চাকমা, মেজর পিয়র, সুবিনয়
চাকমা, অঞ্ছনা চাকমাকে খুনি শন্তু বাহিনী
নির্মমভাবে হত্যা করে। অস্ত্রের মুখে ত্রাস সৃষ্টি
করে উপজাতী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পার্বত্য
বাঙালিদেরকে ভিটা মাটি ছেড়ে গুচ্ছগ্রামে
আশ্রয় নিতে বাধ্য করে। নিরাপত্তা বাহিনীর
টহল দলের উপর আক্রমণ করে কয়েক শত সেনা
সদস্যকে হতাহত করে। বিডিআর পুলিশ আনসার ও
গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের উপর পরিচালনা করে
অতর্কিত হামলা ও আক্রমন,এতে করে বহু সদস্য
হতাহত হয়। এভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর
প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষিত শান্তিবাহিনী
নামধারী উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা
বাংলাদেশের হাজার হাজার নারী পুরুষ শিশু ও
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা কর। স্বাধীন
বাংলাদেশে উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা
হাজার হাজার নিরিহ পার্বত্যবাসীকে নিজ ভূমি
থেকে উৎখাত করার ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে পাড়া ঘেরাও
করে, নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বেরধম কুপিয়ে
এবং খড়ের ঘর গুলোতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে জলন্ত
ঘরের মধ্যে শত শত মা ও শিশুদের জ্যান্ত পুড়িয়ে
অঙ্গার করে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ করেছে
তার নজির ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার যুদ্ধে ও
দেখা যায়নি।
পার্বত্য শান্তি চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল খাগড়াছড়ি,
রাঙামাটি ও বান্দরবনের পার্বত্য তিন জেলার
শান্তি শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা, রাষ্ট্রদ্রোহী
সন্ত্রাসীদেরকে নিয়ন্ত্রন করা। উপজাতী-
পার্বত্য বাঙালি জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান
নিশ্চিনত করার পাশাপাশি তাদের জীবন মান
উন্নয়ন এবং সশস্ত্র রাষ্ট্রদ্রোহী খুনি শান্তি
বাহিনীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার
লক্ষেই পার্বত্য শান্তিচুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিল।
চুক্তি পরবর্তী সময়ে সরকার পার্বত্য শান্তি
চুক্তি পুর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষে অবিরাম কাজ
করে যাচ্ছেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি
জানিয়েছেন ইতোমধ্যে পার্বত্য চুক্তির ৭০%
বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকীটা চলমান আছে।
তারপরও সন্তু লারমা দেশ বিদেশে অপপ্রচার ,
প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে।
যদিও সরকার বলেছেন শান্তি চুক্তির ১০০ ভাগ
বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ । কিন্তু
খুনি সন্তু লারমা ও তার দোসরদের অসহযোগীতার
কারণে তা সম্ভব হচ্ছেনা। সাবেক পার্বত্য
চট্রাগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, রাঙামাটি জেলা
আওয়ামীলীগ সভাপতি বিশিষ্ট উপজাতীয় নেতা
দীপংকের তালুকদার বলেন।

 

পার্বত্য শান্তি
চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক, কিন্তু
পাহাড়ের বিষপোড়া জনসংহতি সমিতি ও
ইউপিডিএফ এর নানা ষড়যন্ত্রের কারণে তা
বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছেনা। এ সকল অপশক্তি
পার্বত্যাঞ্চলে সন্ত্রাস, সশস্ত্র বন্ধুক যুদ্ধ,
চাঁদাবাজি, খুন গুম অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়
করছে। যার কারণে পার্বত্য শান্তিুচুক্তি ১০০%
বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তারা শান্তি চুক্তি লঙ্গন
করছে। এরা নতুন নতুন আবদার করে দফায় দফায়
সরকারের উপর অন্যায় চাপ সৃষ্টি করে দেশ
বিরোধী প্রচারনা চালাচ্ছে।
জেএসএস এবং পাহাড়ী ছাত্র পরিষদসহ খুনি সন্তু
লারমার দোসর অনেকে দেশী বিদেশী
বুদ্ধিজীবি পার্বত্য বাঙালী এবং পার্বত্য
চট্রগ্রাম নিয়ে নানা প্রকার ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার
চালিয়ে যাচ্ছে। তারা পার্বত্য বাঙালিদের কে
সেটেলার বা বহিরাগত বলে আখ্যায়িত করে
থাকে। এটি তাদের একটি কৌশলগত প্রচারনা ।
তাদের ধারনা এমন প্রচারনার মাধ্যমে তারা
পার্বত্য চট্রগ্রামকে সিএইচটি জুম্মল্যান্ড
হিসেবে পরিচিত করতে সক্ষম হবে। এবং
আরাকান ও ভারত থেকে আগত চাকমাদেরকে
পার্বত্য চট্রগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। কিন্তু তাদের ধারণা
ভুল এবং কাল্পনিক। তাদের জানা থাকা উচিৎ
এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে বসবাস
করলে সেটেলার বা শরনার্থী হয় না। বরং একদেশ
থেকে অন্যদেশে গিয়ে বসবাস করলে শরনার্থী
বা সেটেলার হয়। তারা উপজাতীয়দের কে ঘৃন্য
উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আদিবাসী
হিসেবে প্রচার করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে
একমাত্র বাংলাভাষী মানুষরাই যে আদিবাসী
এবং কোন উপজাতীই যে পার্বত্য চট্রাগ্রামের
আদিবাসী নয় বরং পার্বত্য চট্রগ্রামের চাকমারা
ব্রিটিশ আমলে ভারতের আসামের চম্পকনগর এবং
মায়নমারে আরাকান থেকে বহি:ক্রিত হয়ে এ
অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করেছিল তা বহু লেখক
ও গবেষকগণ তাদের বিভিন্ন গবেষণায় স্পষ্ট করে
দেখিয়েছেন।
অথচ পার্বত্য চুক্তির ফলে সন্তু লারমাও তার
দোসরেরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। নিরিহ
বাঙালী ও সাধারণ উপজাতী জনগোষ্ঠী পার্বত্য
চুক্তির বিন্দুমাত্র সুফল পান নাই। শান্তিু চুক্তির
সম্পূর্ণ লাভের ভাগ কতিপয় মতলববাজ
উপজাতীদের পেটে গিয়ে জমা হয়েছে।
পার্বত্যবাসী বাঙালিরা এবং পাহাড় জঙ্গলে
অমানবিক জীবন যাপনকারী সাধারণ দরিদ্র
উপজাতীদের ভাগ্যেও জুটে নাই এই চুক্তির কোন
সুফল । পাবত্য বাঙালিরা প্রথম থেকেই
আতংকিত ছিলেন চুক্তির কারণে নিজেদের
অস্তিত্ব হারানোর ভয়ে। যা বিগত ২১ বছরে ধাপে
ধাপে নিরিহ বাঙালিরা টের পেতে শুরু করেছে।
এর সর্বশেষ আলামত ফুটে উঠেছে গত ২০১৬বর্তমান
সরকারের মন্ত্রীসভার এবং জাতীয় সংসদে
পাশকৃত বহুল বিতর্কিত পার্বত্য চট্রগ্রাম ভূমি
বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনায় সংশোধন / ২০১৬ এর
মাধ্যমে, ২০০১ সালের ১৭ই জুলাই জাতীয় সংসদে
ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন পাশ হয়,
তারপর ২০১৬ সালের ১ জুলাই মন্ত্রীসভায় এ
আইনের সংশোধনী গেজেট আকারে এবং ৬
অক্টোবর জাতীয় সংসদে পাশ হয়।
পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনটি
যেই অক্ষরে, যেই স্পিরিটে, যেই চেতনায় গঠিত
হয়েছে তার একমাত্র লক্ষ্য হল পার্বত্য
বাঙালিদেরকে ভূমিহীন করা। যদি
বাঙালিদেরকে ভূমিহীন করা হয় তাহলে
তাদেরকে সেখানে থেকে বিতাড়িত করা সহজ
হবে। আর পার্বত্য বাঙালিদেরকে বিতাড়িত করা
গেলেই উপজাতি সন্ত্রাসীদের স্বপ্নের
জুম্মল্যান্ড গঠন করা সহজ হয়ে যাবে।
পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের ৫জন
বিচারকের মধ্যে ৩জন উপজাতি, ২জন সরকারি
প্রতিনিধি রাখা হলেও পার্বত্য বাঙালি কোন
প্রতিনিধি রাখা হয়নি।

 

 

২০০১ সালে আইনে মতবিরোধের ক্ষেত্রে
চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হলেও ২০১৬
সালের সংশোধনীতে চেয়ারম্যানসহ সংখ্যা
গরিষ্টের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করা হয়েছে। এখানে
চেয়ারম্যান পুতুলে পরিণত হয়েছে। আইনের
বিভিন্ন ছত্রে এমন কিছু শব্দ বা শর্ত যুক্ত করা
হয়েছে। যা চরমভাবে বাঙালিদের স্বার্থ
পরিপন্থি। সুতরাং বর্তমান বিতর্কিত বাঙালি
বিদ্বেষী একতরফা উপজাতীয় নেতা বেষ্টিত
পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনকে
বাস্তবায়ন করা হলে বাঙালিরা অচিরেই তাদের
অস্তিত্ব হারাবে।
চুক্তিতে সন্তু বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গনহত্যা,
ধর্ষন, অপহরণ, বসত-ভিটার অগ্নি সংযোগ, পুড়িয়ে
ও কুপিয়ে মানুষ হত্যা, দেশদ্রোহীতা ইত্যাদি
সকল মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য শান্তি
বাহিনীর সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করে
নিরীহ বাঙালিদের আত্মার সাথে প্রতারণা করা
হয়েছে। কিন্তু চুক্তির পর এ যাবৎকাল উপজাতীয়
সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে হাজার হাজার মানুষ
হত্যার শিকার হয়েছে, ১৫০০ জনেরও বেশি
পার্বত্য নাগরিক অপহরনের শিকার হয়েছে।
প্রতিদিন সংবাদ পত্রে পার্বত্য চট্রগ্রামে
সশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতার খবর দেখা যায়।
আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে প্রায় প্রতিদিনই
গোলাগুলিতে মারা যাচ্ছে জেএসএস ও
ইউপিডিএফ এর সদস্য। চুক্তি পুরোপুরি
বাস্তবায়িত না হলে আবারো শসস্ত্র সংগ্রাম
শুরুর প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে সন্তু লারমা।
আর এভাবে সন্তু লারমা নিজেই চুক্তি ভঙ্গ করছে।
সরকার যে সকল নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প
প্রত্যাহার করেছে সেগুলো জেএসএস ইউপিডিএফ
সদস্যরা নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের দখলে নিচ্ছে।
তারা সেখানে বে․দ্ধু মূর্তি স্থাপন করে, ধর্মীয়
উপসনালয় হিসেবে ব্যবহার করে নিজেরেদর দখল
পাকাপোক্ত করছে এবং দুর্গম পাহাড়ে অসংখ্যা
সশস্ত্র ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়েছে।
পাবত্য চট্রগ্রামে আগের মতই হত্যা, খুন, গুম,
অপহরণ, অস্ত্র দেখিয়ে চাঁদাবাজি নির্বিঘ্নে
চলছে। ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, গাড়ির চালক,
সাধারণ দোকানদার এ চাঁদাবাজির শিকার।
অস্ত্রের মুখে অপহৃতদের অধিকাংশই আর জীবিত
ফিরে আসে না। সর্বশেষ গত ০৪ই এপ্রিল ২০১৮ ইং
মাটিরাঙ্গার ৩ জন নিরিহ বাঙালি গরু
ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় উপজাতীয়
সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। কিন্তু অদ্যবধি তাদের কোন
খবর নাই।
পার্বত্য তিন জেলায় ৩টি সংসদীয় পদ
উপজাতীয়দের জন্য সংরক্ষিত করে দেওয়ার জন্য
সন্তু লারমা নতুন করে আবদার করছে।
উপজাতীয়দের আদিবাসী হিসেবে ঘোষনা
দেয়ার দাবীতে তারা কক্সবাজার
ঢাকা,চট্রগ্রাম এবং দেশের বিভিন্ন স্থানসহ
পার্বত্য চট্রগ্রামে প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠান
আয়োজন করে থাকে। আর এসব কাজের
সহযোগীতা করে কিছু সংবাদ পত্রের সম্পাদক,
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, মানবাধিকর কর্মী
নামধারী কিছু বাংলাদেশ বিরোধী এদেশীয়
এজেন্ট, এবং ব্রিটেনের লর্ড এভেবরীর নেতৃর্ত্বে
সুলতানা কামাল, সারা হোসেনরা স্বঘোষিত
আন্তর্জাতিক নামধারী সিএইচটি কমিশন নাম
দিয়ে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে
যাচ্ছে।

 

 

অথচ বাস্তবতা হলো পার্বত্য চুক্তির ফলে তিন
পার্বত্য জেলায় উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর জীবন
মান উন্নয়নে সরকার ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়
দেশী বিদেশী এনজিও, ইউএনডিপি মিলে ব্যাপক
উন্নয়ন কর্মসূচি পালন করছে। এগুলো সবই হয়েছে
উপজাতীদের কল্যাণে, নিরিহ পার্বত্য
বাঙালিদের ভাগ্যে এর ছিটে ফোটাও জুটেনি।
দীর্ঘ ২১ বছরের পেক্ষাপটে এ চুক্তির ফলাফল
বিবেচনা করার সময় এসেছে। এ চুক্তির ফলে কি
করেনি সরকার উপজাতীয় জনগনের কল্যান ও
তাদের উন্নয়নে, আজ উপজাতীয় জনগনের প্রতি
ঘরে শিক্ষিত তরুন যুবক, প্রতি ঘরে চাকরীজিবী,
চাকমাদের শিক্ষার হার ৯৭%, বিসিএস সহ সকল
চাকুরীতে কোটা ব্যাবস্থা, অগ্রাধিকার ব্যবস্থা,
ইউরোপ, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়ায় স্লারশীপ সহ
সব মিলিয়ে পুরো পার্বত্য চট্রগ্রামের উপজাতীয়
জনগনের উন্নয়ন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত যেকোন
অঞ্চল থেকে অনেক বেশি উন্নত। উপজাতীয়দের
ব্যবসা ট্যাক্স ভ্যাট দেওয়া লাগে না।
ঠিকাদারী ব্যবসায় ট্যাক্স মুক্ত। উন্নয়নে
অর্থগ্রহনে কোন প্রতিবন্ধকতা নাই। পার্বত্য
চট্রগ্রামের সকল অথোরিটির মধ্যে অর্থাৎ
আঞ্চলিক পরিষদ, তিনটি জেলা পরিষদ, উন্নয়ন
বোডর্, পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়,
শরনার্থী বিষয়ক টাক্সফোর্স, ৩ জন সার্কেল চীফ
ও পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ সর্বত্রই
উপজাতীয় নেতৃবৃন্দের নেতৃর্ত্ব চলছে।
তিন পার্বত্য জেলার সকল সরকারি, বেসরকারি
প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, স্কুল, কলেজ,
বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ সহ সকল
প্রতিষ্ঠানে চাকরীজিবীদের সিংহ ভাগই
উপজাতি। সেখানে পার্বত্য বাঙালি
চাকুরীজিবী খুঁজে পেতে মাইক্রোস্কোপ
লাগবে। পার্বত্য চট্রগ্রামের টেকসই নিরাপত্তা
ও শান্তি স্থাপনে সরকারের প্রতি প্রত্যাশা
পার্বত্য চট্রগ্রামে উপজাতি এবং বাঙালী
নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান নাগরিক ও
মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয়
সরকারের বিভিন্ন পদগুলোতে উভয় সম্প্রদায়ের
সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে।
জেএসএস ও ইউপিডিএফ সহ উপজাতিয় সশস্ত্র
সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে দমন করতে হবে। শিক্ষা
চাকরীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পার্বত্য কোটা চালু
করে সকলের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত
করতে হবে। পার্বত্য চট্রগ্রামে অসাংবিধানিক
চুক্তি বাস্তবায়নে এবং ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে
তৎপর দেশী বিদেশী সকল এনজিও এবং
প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে। ভূমি
বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনে আইনের নামে পার্বত্য
এলাকা থেকে বাঙালি উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র বন্ধ
করতে হবে। টাক্মফোর্স কর্তৃক অ‣বধ পূর্ণবাসন
ষড়যন্ত্র বন্ধ করে বিতাড়িত বাঙালি পরিবার
গুলোর পূণর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
প্রত্যাহারকৃত সকল পূণঃস্থাপন করে, অভিযানের
মাধ্যমে পার্বত্য এলাকা সকল অবৈধ অস্ত্র
উদ্ধার করতে হবে।
কোন যুক্তিতেই মাত্র ৭ লক্ষ উপজাতির জন্য
দেশের এক দশমাংশ এলাকা নিদির্ষ্ট করে ছেড়ে
দেওয়া যায় না। দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমির উপর
প্রতিটি নাগরিকের সংবিধান স্বীকৃত সমান
অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সরকারের
প্রতি আশাবাদী সার্বিক বিষয় বিবেচনায় এনে
পার্বত্য বাঙালিদের অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের
দাবি মেনে নিয়ে শান্তি স্থাপনে কার্যকরী
পদক্ষেপ গ্রহন করবেন। কারণ এক ঘরে দুই ভাইয়ের
মধ্যে এক ভাইকে অনাহারে রেখে অন্য ভাইকে
বিরানী খেতে দিলে সেঘরে কোনদিনও শান্তি
আসবেনা। দেশের অখন্ডতা, নিরাপত্তা এবং
উপজাতি ও বাঙালি নির্বিশেষে সকল পার্বত্য
নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করবে
সরকারের প্রতি এটাই একমাত্র প্রত্যাশা।
নিরাপত্তা ও সার্বভে․ত্ব বিষয়ক কে․শলগতভাবে
গুরুত্বপূর্ণ দেশের এক দশমাংশ এলাকায় বর্হি
শক্তির প্ররোচনায় সৃষ্ট সন্ত্রাস দমন ও শান্তি
প্রতিষ্ঠায় প্রতিটি দেশ প্রেমিক নাগরিকের
এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবী।

 

 

লেখকঃ

মু. ইব্রাহীম মনির,
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি,

পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ,

প্রচার সম্পাদক,
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন,কুমিল্লা শাখা।

 

 

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
ডিসেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« নভেম্বর   জানুয়ারি »
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১