স্বপ্ন দেখি আশ্রয়হীন বৃদ্ধ ও অনাথ শিশুদের নিয়ে কাজ করার ” – অয়ন চক্রবর্তী


প্রকাশের সময় :৩১ অক্টোবর, ২০১৯ ১:০০ : অপরাহ্ণ

নানা গুণে ও অর্জনে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ রিয়ালিটির শোর চূড়ান্ত পর্যায়ের বিজয়ী তৃতীয় সেরা বাংলাবিদ অয়ন চক্রবর্তী। লেখাপড়ায় তুখোড় মেধাবী অয়ন একইসাথে লেখালেখি, বিতর্ক, বক্তৃতা ও উপস্থাপনার সাথে যুক্ত। অয়ন চক্রবর্তীর মূহুর্ত গুলো নিয়ে জানাচ্ছেন‌-

– অর্ক রায় সেতু

 

 

১)এই অর্জন প্রাপ্তির পিছনে তুমি কতটুকু আশাবাদী ছিলে?

অয়ন চক্রবর্তীঃ ২০১৮ সালে বিভাগীয় অডিশনে বিভাগীয় সেরা ৪০ থেকে বাদ যাওয়ার পর মনে মনে শপথ নিয়েছিলাম ২০১৯এ অন্তত বিভাগীয় অডিশনে টিকতেই হবে। স্রষ্টার অপার কৃপায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মধ্য দিয়ে বিভাগীয় সেরা ৬ এ নির্বাচিত হবার পর স্বপ্ন ছিলো দেশসেরা ২০ এ নির্বাচিত হবো। স্রষ্টা সেই স্বপ্নও পূরণ করেছিলেন। তারপরের গল্প তো অনেকেরই জানা। প্রস্তুতি ভালো ছিল, তবে এতটা আশা শুরুর দিকে করিনি।

 

 

২)তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কে?

অয়ন চক্রবর্তীঃ আমার মা – বাবা ও ঠাম্মা। আর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দেন বাংলার শিক্ষিকা শ্রদ্ধেয়া মণিকা রায় ঠাকুর ; আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক তিনি। আর আমার একান্নবর্তী পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ভালোবাসাও ছায়া হয়ে কাজ করে সবসময়।

 

 

৩)পৃথিবীর বুকে আর কি কি স্বাক্ষর রেখে যেতে চাও?

অয়ন চক্রবর্তীঃ মানুষের জীবন অত্যন্ত ছোট্ট। এই ছোট্টজীবনে এমন কিছু করতে চাই যেন মৃত্যুর পরেও মানুষ যেন আমায় স্মরণ করে। তবে ছোটবেলা থেকে একটি স্বপ্ন দেখি আশ্রয়হীন বৃদ্ধ ও অনাথ শিশুদের নিয়ে কাজ করার।

 

 

৪)বাংলাবিদের ক্যাম্পের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে? কেমন ছিলো দিনগুলো?

অয়ন চক্রবর্তীঃ সেদিনগুলোর কথা হয়তো জীবনের শেষ মূহুর্তেও ভুলতে পারবো না। বাংলাবিদের সুবাদে অনেক মহৎ ব্যক্তিদের সান্নিধ্য পেয়েছি ; সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বন্ধু হিসেবে পেয়েছি। বাংলাবিদের মেক আপ রুমের খুনসুটি আজীবন মনে থাকবে। বিজয়া দশমীর দিন বাংলাবিদ ক্যাম্পের সবাই মিলে বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ দেখতে যাওয়াটা অনেক মজার ছিল। একসাথে আড্ডা দেয়া বা দলবেঁধে ক্যান্টিনে খাবার খেতে যাওয়া – স্মৃতির মণিকোঠায় আজীবন ভাস্বর হয়ে থাকবে। অনেক ভালো লাগা – ভালোবাসা জড়িয়ে আছে বাংলাবিদের সাথে।

 

 

৫)যারা “ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ” – এ অংশ গ্রহণ করতে চায় তাদের জন্যে তোমার পরামর্শ কী?

অয়ন চক্রবর্তীঃ আমি প্রথমেই বলি যারা বাংলাকে ভালোবাসে, তারা সবাই বাংলাবিদ। আর যারা “ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ” – এ অংশ গ্রহণ করতে চাও, তাদের জন্য প্রথম পরামর্শ – বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বাংলা ভাষার বিস্তার আর বাংলা ভাষার সাহিত্য ও লেখকদের সম্বন্ধে বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করো। আর বাংলাবিদের গত তিন বর্ষের পর্বগুলো ভালোভাবে দেখ। আর সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি – বাংলাকে ভালোবাসো।

 

 

৬)তোমার কাছে সফলতার মূল মন্ত্র কি?

অয়ন চক্রবর্তীঃ চেষ্টা আর স্রষ্টার কৃপা আমার কাছে সফলতার মূল মন্ত্র।

 

 

৭) এখন তো সেলিব্রিটি। এবছরের জানুয়ারি মাসের অয়ন চক্রবর্তী আর আজকের অয়ন চক্রবর্তীর মধ্যে কতটা পার্থক্য?

অয়ন চক্রবর্তীঃ গত কয়েকমাসে অনেক পরিচিতি পেয়েছে। রাস্তায় বেরোলে মানুষজন চিনতে পারেন, জিজ্ঞেস করেন আমিই বাংলাবিদ অয়ন চক্রবর্তী কিনা। অনেকে সেলফি তোলেন, স্বাক্ষর নেন। তবে আগের অয়ন চক্রবর্তীর সাথে আজকের অয়ন চক্রবর্তীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য নেই।

 

 

৮) বাংলাবিদ হবার পরে অনেকেই অনেক বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। তোমার জন্য সবচেয়ে বিরক্তিকর প্রশ্ন কোনটি?

অয়ন চক্রবর্তীঃ হ্যাঁ, অনেকেই অনেক বিষয়ে জানতে চান।” তুমি দিনে কয় ঘণ্টা পড়ো?” – এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে বিরক্তিকর লাগে।

 

৯)অবসর কিভাবে কাটাও?

অয়ন চক্রবর্তী: অবসর সময় কাটে লেখালেখি করে। টুকটাক গল্প ও কবিতা লিখি। এবছরের শুরুতে একটি উপন্যাস লেখা শুরু করেছিলাম, এখনো সেটি চলমান আছে। রবীন্দ্রসংগীত শুনতে ভালো লাগে। গল্পের বই পড়তেও অনেক ভালো লাগে।

 

১০)তোমার জীবনে সবচেয়ে বড় সফলতা কি?

অয়ন চক্রবর্তীঃ বাংলাবিদের সুবাদে বহু মানুষের আশীর্বাদ-ভালোবাসা পেয়েছি। অসংখ্য মানুষ তাদের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন ; প্রবাসী বাঙালিরাও প্রচুর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমি মনে করি এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
অক্টোবর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর   নভেম্বর »
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১