শিরোনাম: বিমানবন্দরে আ’লীগ নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন এমপি জাফর আলম ও সহ-ধর্মীনি শাহেদা জাফর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের আরোগ্য, নিহতের মাগফিরাত কামনা আজকের প্রজন্মের দোয়া মাহফিল চকরিয়ায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে পাষণ্ড স্বামী রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগে ঢাকা থেকে আজিজিয়া ট্রাভেলস’র মালিক গ্রেফতারঃ চকরিয়ায় অফিসে তালা ঢেমুশিয়া মুছার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পি এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযান চলতে থাকুকঃ সাবরিনা চৌধুরী ভর্তিচ্ছুদের জন্য এডমিশন হেল্প ডেস্ক কার্যক্রম চালাচ্ছে সিলসা! চকরিয়ায় ভীমরুলের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

আবরার হত্যার বিচার: আইনী বিশ্লেষণ


প্রকাশের সময় :১২ অক্টোবর, ২০১৯ ৯:২৫ : পূর্বাহ্ণ

প্রজন্ম আইন প্রতিবেদকঃ

ধরলাম চার্জশীট দেয়া হবে, ২২/২৩ জন আসামীর নাম যাবে। কিন্তু দায়রা জজ বা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল শেষ পর্যন্ত ২/৩ জনকে ফাঁসি, আরো ২/৩ জনকে যাবৎজীবন কারাদন্ড, আরো কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল আর কয়েকজন বেকুসর খালাস দিবে।

 

 

তারপর সেই রায় উচ্চ আদালতে আপীল যাবে। সেই রায়ে যেই ২/৩ জনের ফাঁসি দেয়া হবে সেটাও উল্টে যাবার জোর সম্ভাবনা আছে, থাকে। বড় জোর একজনের ফাঁসি বহাল থাকবে (জবানবন্দী অনুযায়ী অনীক সরকারেরটা বহাল থাকতে পারে) । সেটাও যাবৎজীবন হয়ে যেতে পারে।

 

 

কারন আদালতে এটাই জোর প্রমান করার চেষ্টা থাকবে যে আবরার খুন (Murder) হননি, হয়েছে অপরাধমুলক নরহত্যার (Culpable Homicide) স্বীকার।

দুটিই হত্যা কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে, খুন সেটা যা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করার উদ্দেশ্যে আঘাত করা। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে আঘাত করা কিন্তু হত্যার কোন উদ্দেশ্য ছাড়া।

 

 

আবরার হত্যাকান্ডে আদালতের কাছে এই একটা প্রশ্নই প্রধান বিবেচ্য হবে যে এটি খুন, না নরহত্যা।

ধারালো অস্ত্র না নিয়ে কেবল চড়-থাপ্পড় বা ক্রিকেট স্ট্যাম্প, রশি দিয়ে আঘাত, অবস্থা বেগতিক দেখে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা, হলের চিকিৎসককে দ্রুত বাইকে করে হলে আনা আদালতের কাছে সহজেই প্রমান করা যাবে আবরারকে হত্যার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না।

 

 

তাহলে খুন না হয়ে প্রমান হবে সেটি নরহত্যা। দন্ডবিধির ৩০২ ধারার পরিবর্তে তখন আদালত সাজা দিবে ৩০৪ ধারা মোতাবেক যার সর্বোচ্চ সাজা যাবৎজীবন জেল (৩০ বছর) অথবা ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড। ফাঁসি দেবার সুযোগই নেই।

ফাঁসি না দেবার বিষয়ে আদালত আরো যে বিষয়গুলো বিবেচনা করে সেটা হবে আসামীরা অভ্যাসগত অপরাধী (habitual offender) কিনা এবং এখানে আসামীরা সবাই তরুণ বয়সী এটাও বিবেচনা করা হবে।

 

 

ঐশী হত্যার পরও দায়রা আদালতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী খুন প্রমানিত হবার পরও দায়রা আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় কিন্তু উচ্চ আদালতে পর্রিবতন করে যাবৎজীবন করে দেয়া হয়েছে। ঐশীর বয়স বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

তাই খুন প্রমানিত হলেও ফাঁসির আদেশ না দেয়া কেবল এরা সবাই ছাত্রলীগ করে এই বিবেচনায় না, আইনের স্বাভাবিক ব্যবহারেই এটা হবে।

 

 

বিশ্বজিৎ হত্যার রায়ে অনেকের ফাঁসির আদেশ উচ্চ আদালতে পরিবর্তন হয়ে যাবৎজীবন হয়েছে এই একই কারনে। একটি ফাঁসির আদেশ আদালত বহাল রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সর্তকতা বজায় রাখে। একটি রায়ে বিচারককে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমান দিতে হয় কেন তিনি আসামীকে ফাঁসি দিচ্ছেন। সেখানে কোন আবেগের সুযোগ থাকে না, বুয়েটের ছাত্র না বরিশাল ইউনির্ভাসিটির ছাত্র সেটা দেখার কোন সুযোগ থাকে না।

 

 

প্রথম আলো, ডেইল ষ্টারের মালিক লতিফুরে মেয়ে শাজনীন হত্যা মামলার রায় হতে সময় লেগেছে ১৯ বছর। দায়রা আদালতে দেয়া ৫ জনের ফাঁসির আদেশ শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতে টিকেছে মাত্র একজনের। চার্জশীটে আসামী ছিল ১০ জনের বেশি।

 

 

যত দ্রুতই হোক আবরার হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতেও কমপক্ষে ৪/৫ বছর লাগবে। হয় কারোই ফাঁসি হবে না, হলেও এক বা দুইজনের। এটাই আামদের দেশের আইন চর্চা। এ্রর বাইরে আপনার আশা বা বুঝ দুটাই আইন না জানার কারন, বা আবেগ।

কেবল পরীক্ষায় এ+ পাওয়ায় পাশ না, তেমনি কেবল ফাঁসি দেয়ায় সাজা না।

 

আবরার হত্যার সাজা হোক, হবে। কিন্তু সেটার জন্য সময় লাগবে। আপনি আশা করতে পারেন না এটা তিন মাসে হবে, বা চার্জশীটের সবার ফাঁসি হয়নি মানে ন্যায় বিচার হয়নি। আইনের নিজস্ব একটা গতি আছে, সেটা আগে বুঝতে হবে।

 

লেখকঃ এডভোকেট সা’দ শামীম

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
অক্টোবর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর   নভেম্বর »
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১