ধ্বংসের পথে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পর্যটনশিল্প


প্রকাশের সময় :২৮ জুলাই, ২০১৯ ৩:৫৪ : অপরাহ্ণ

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

 

সেন্টমার্টিনের প্রাচীন নাম জিনজিরা হলেও বর্তমানে সেন্টমার্টিন নামেই বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে। আয়তন ছোট হলেও স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে দ্বীপটিতে প্রায় দশ হাজার লোকের বসবাস।

 

 

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত টেকনাফ উপজেলার একটি ইউনিয়ন এটি। এই ইউনিয়নে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি এতিমখানা ও কয়েকটি ফুরকানিয়া মাদ্রাসা রয়েছে। এই দ্বীপের মানুষ অনেক ধর্মবান্ধব বলেও একটি সুনাম সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। এ দ্বীপের শতকরা ৯৯.৯৯ ভাগ মানুষ মুসলমান। তারা দ্বীপটির আদিকাল থেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে এলেও ১৯৯০ সাল থেকে পর্যটন এলাকা হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত পাওয়ায় বেশির ভাগ মানুষ পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

 

 

বর্তমান সময়ে শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ পর্যটন ব্যবসাকে প্রধান ব্যবসা হিসাবে বেঁচে নিয়েছেন। যার যা ছিল জায়গা জমি ফিশিং ট্রলারসহ সব কিছু বিক্রি করে কেউ কটেজ কেউ বা রেস্টুরেন্ট, কেউ আবার বিচ চেয়ার আবার অনেকেই ডাব বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ঠিক এমন সময় কিছু পরিবেশবাদী পরিবেশ বিনষ্টের দোহাই দিয়ে পর্যটনশিল্পকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রীতিমতো ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে।

 

 

এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের মন্তব্য জানতে চাইলে তারা জানান, আমরা সেন্টমার্টিনকে ঘিরে বেঁচে আছি। পর্যটন ব্যবসা ও মৎস্য আহরণ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করছি। এই দ্বীপ রক্ষায় অন্যদের তুলনায় আমাদের মমতা ও দায়িত্ব বেশি। কিন্তু কতিপয় মহলের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে আমাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকার দোহাই দিয়ে বেলা নামের একটি এনজিও সংগঠন নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে আদালত থেকে রায় নিয়ে প্রথমে তিন বছরের জন্য পর্যটক বন্ধের দাবি জানালেও পরে এই দাবি থেকে সরে ১২৫০ জনের বেশি পর্যটক আসতে না দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানায় এবং তার সাথে গত বছর পরিবেশ অধিদপ্তর আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলার নোটিশ জারি করে। এবং মাছ শিকারের ট্রলারগুলো পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

 

গত ১৯ জুলাই শুক্রবার ময়লা আবর্জনাসহ দ্বীপের কিছু মিথ্যা বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে “দূষণে মুমূর্ষু সেন্টমার্টিন” শিরোনামে একটি সংবাদ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশ করেন। এটি একটি ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। তারা আরো বলেন, আমরা স্থনীয়রা প্রতিদিনের ময়লাকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়ে থাকি। এইভাবে আমরা দ্বীপটিকে সব সময় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এমন প্রশ্নে স্থানীয়রা দ্বীপে যতগুলো বড় বড় স্থাপনা রয়েছে তা সবই বহিরাগত লোকের বলে দাবি করেন।

 

 

তারা আরো বলেন, বড় বড় স্থাপনা না হউক এটা আমরাও চাই; কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় দায়িত্বশীলরা চোখ-কান খোলা রাখলে এই স্থাপনাগুলো গড়ে উঠা সম্ভব হতো না বলে তার মত ব্যক্ত করেন। স্থানীয়রা আরো বলেন, আমরা এই দেশের নাগরিক। মৌলিক অধিকার পেয়ে এই দ্বীপে বসবাস করতে চাই। কিন্তু মৌলিক অধিকার অন্যরা পাবে আর আমরা দ্বীপবাসী পাবো না এটা কেমন বিচার?

 

 

বাংলার রূপকার বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছে। সেন্টমার্টিনেও অল্প সময়ে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আরো হবে। কিন্তু এখানকার মানুষের কথাও চিন্তা করতে হবে সরকারকে। তাই দ্বীপ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের কথাও বিবেচনায় এনে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করার দাবির জানাচ্ছি। যে নীতিমালায় দ্বীপ রক্ষার করণীয় সব কিছু উল্লেখ থাকবে। নীতিমালা প্রণয়ন হলে আমরা তার আলোকে ব্যবসাসহ যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারব।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
জুলাই ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    আগষ্ট »
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১