কবির প্রথম প্রয়াস—প্রাথমিক রচনাকৌশল


প্রকাশের সময় :২৭ জুলাই, ২০১৯ ১:১১ : অপরাহ্ণ

কবিতা সাহিত্যের উচ্চমার্গীয় স্তর। প্রাগৈতিহাসিক কাল হতে আজ অবধি মানুষের মানবিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে কবিতার ভূমিকা অনস্বীকার্য। যুগ যুগ ধরে কবিতা সাম্য, প্রেম, মানবতা এবং নির্যাতিত-নিগৃহীত মানুষের পক্ষে রেখেছে বলিষ্ট ভূমিকা। শান্তির সমঝদার হিসেবে রচনা করেছে সুবিশাল পাণ্ডুলিপি। তবে এই কবিতা প্রথম দিকে মূখ্যভাষায় ছড়ানো হলেও পরবর্তী কালে লেখনী শক্তিতে আবর্তিত হয়। যার জন্য নির্মিত হয়েছে রচনাকৌশল কিংবা ছন্দের কারুকার্য। তবে হ্যাঁ, আধুনিক কবিদের অনেকেই ছন্দের শেকলে আবদ্ধ থাকতে চান না। কিন্তু আমার অভিমত হচ্ছে, শেকল চিন্তার পূর্বেই ছন্দের পাঠ সম্পর্কে পুরুপুরি জ্ঞাত হওয়া কবি তথা সাহিত্যিকসমাজের জন্য সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে ছন্দের পাঠ না নেয়া কবিদেরকে নিতান্তই সাহিত্যিকসমাজের একদল আঁগাছা বলা যায়। (উক্ত প্রবন্ধে কবিতা শব্দের সার্বিক অর্থে ছড়া, পদ্য, কবিতা বুঝানো হচ্ছে)। এখানে আমরা মূলত বাংলা কবিতা রচনার প্রাথমিক বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করবো। এযাবতকালে নির্মিত বাংলা কবিতার রচনাকৌশলের (ছন্দোবদ্ধ কবিতার ক্ষেত্রে) মধ্যে প্রথম পাঠ স্বর বা ধ্বনি।


স্বর: স্বর মূলত শব্দের একক। যা শব্দের শরীর পরিমাপ তথা মাত্রার সাথে নিগুঢ় সম্পর্কে জড়িত। বাংলায় স্বরকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। মুক্তস্বর ও বদ্ধস্বর।

মুক্তস্বর: যে সব স্বর বা ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখের প্রবহমান বাতাস বাঁধামুক্ত থাকে, অর্থাৎ মুখ দিয়ে বাতাস বেরোয় তাদেরকে মুক্তস্বর বলে। যেমন- কি, যে, সা, হো ইত্যাদি।

বদ্ধস্বর: যে সব স্বর বা ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখের প্রবহমান বাতাস জ্বিবের বাঁধাপ্রাপ্ত, অর্থাৎ কোন প্রকার বাতাস বেরোয় না তাদেরকে বদ্ধস্বর বলে। যেমন- নিম, জ্বর, লাম, গুম, গেম ইত্যাদি।

সামগ্রিক উদাহরণ:
“অন্ধকারে আচম্বিতে কোত্থেকে এই আলো?
মা আমেনা বললো হেসে দূর হবে সব কালো!”
উক্ত পঙক্তিতে ‘অন্ধকারে’ শব্দটা চিন্তা করলে দেখা যায়- অন+ধো+কা+রে, অর্থাৎ একটি বদ্ধস্বর (অন) এবং তিনটি মুক্তস্বর (ধো, কা, রে) বিদ্যমান।


মাত্রা: মাত্রা শব্দের শাব্দিক অর্থ পরিমাণ, অবিচ্ছেদ, অংশ, উচ্চারণকাল ইত্যাদি। স্বাভাবিকত একটি অক্ষর উচ্চারণে যে সময় প্রয়োজন তার পরিমাপকে মাত্রা বলে। বাংলায় মাত্রা পরিমাপ একেক ছন্দে একেক রকম নিয়মাবলীতে আবদ্ধ।
• স্বরবৃত্ত ছন্দে- প্রত্যেক মুক্তস্বর এবং বদ্ধস্বর একমাত্রা করে। ‘সঙ্গোপন’ শব্দে ‘সঙ(১)+গো(১)+পন(১)’ এখানে তিনমাত্রা।

• অক্ষরবৃত্ত ছন্দে- প্রত্যেক মুক্তস্বর একমাত্রা, বদ্ধস্বরের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হচ্ছে বদ্ধস্বর শব্দের শেষে হলে দুইমাত্রা এবং শব্দের শুরু অথবা মধ্যখানে হলে একমাত্রা। ‘সঙ্গোপন’ শব্দে ‘সঙ(১)+গো(১)+পন(২)’ এখানে চারমাত্রা। পার্থক্য ‘সঙ’ এবং ‘পন’ এর মধ্যে। দুটি বদ্ধস্বর হলেও ‘সঙ’ অক্ষরের শুরুতে অথবা মধ্যখানে হওয়ায় একমাত্রা, অন্যদিকে ‘পন’ অক্ষরের শেষে হওয়ায় দুইমাত্রা।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দে- প্রত্যেক মুক্তস্বর একমাত্রা এবং প্রত্যেক বদ্ধস্বর দুইমাত্রা। ‘সঙ্গোপন’ শব্দে ‘সঙ(২)+গো(১)+পন(২)’ এখানে পাঁচমাত্রা।


পর্ব: কবিতার প্রত্যেক পঙক্তির মধ্যে একিমাত্রার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে পর্ব বলে। সাধারণত পর্ব তিনপ্রকার হয়ে থাকে। যথা- উপপর্ব, পূর্ণাঙ্গপর্ব ও অতিপর্ব।
• পূর্ণাঙ্গপর্ব- প্রত্যেক কবিতায় একিমাত্রার কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ পর্ব থাকতে পারে।
• উপপর্ব- পূর্ণাঙ্গপর্বের মাত্রার চেয়ে কমমাত্রার পর্ব পঙক্তির পূর্বে থাকলে তাকে উপপর্ব ও পঙক্তির শেষে থাকলে তাকে অতিপর্ব বলে।

পর্বের বৈশিষ্ট্য ও সামগ্রিক উদাহরণ:
প্রথমত,
“ফুলকুঁড়ি তোর জন্মদিনে হাসি এবং লিখি
কিংবা খেলি এদিকওদিক, ছন্দগড়া শিখি।” (স্বরবৃত্ত ছন্দ)
উক্ত পঙক্তিদ্বয়ের একটি পঙক্তি আমরা ব্যাখ্যা করি। এখানে [ফুল+কুঁ+ড়ি+তোর(৪) জন+মো+দি+নে(৪) হা+সি+এ+বং(৪) লি+খি(২)] প্রত্যেক পর্ব চারমাত্রার, কিন্তু পঙক্তির শেষে দেখা যায় দু’মাত্রার একটি অপূর্ণাঙ্গ পর্ব। এটি অতিপর্ব। শুরু করা কোন কবিতা একি মাত্রাসমেত পর্ব বিন্যাসে সমাপ্ত করা কবিতা রচনার অন্যতম সফলতা। মাত্রা ঠিক থাকলে পরে ছন্দপতনের সম্ভাবনা বহুলাংশে কম।

দ্বিতীয়ত,
“আগুণের পরশ মণি ছোঁয়াও পাণে
এ জীবন পূণ্য করো দহন-দানে” (স্বরবৃত্ত ছন্দ)
উক্ত পঙক্তিদ্বয়ে আমরা পূর্বের মতো একটি পঙক্তি ব্যাখ্যা করি। এখানে [আ+গু+ণের(৩) প+রশ+ম+ণি(৪) ছোঁ+য়াও+পা+ণে(৪)] প্রত্যেক পর্ব চারমাত্রার সমজাতীয় হলেও পঙক্তির শুরুতে তিনমাত্রার অপূর্ণাঙ্গ পর্ব বিদ্যমান। এটি উপপর্ব।

তৃতীয়ত, অক্ষরবৃত্ত ও মাত্রাবৃত্ত ছন্দেও একি। তবে সবছন্দেই পর্বগঠনের ক্ষেত্রে কবির স্বাধীনতা বিদ্যমান। পর্বগঠনের ক্ষেতে একে অপরের দাসত্বের কোন প্রয়োজন নেই।

চতুর্থত, স্বরবৃত্ত ছন্দের সর্বাধিক প্রচলিত পর্ব বিন্যাস হচ্ছে চারমাত্রার, মাত্রাবৃত্তে ছয়মাত্রার ও অক্ষরবৃত্তে আট/দশমাত্রার। তবে এক্ষেত্রে কবির চাহিদা অগ্রগণ্য। অতিপর্ব ও উপপর্ব প্রত্যেক ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ পর্বের কমমাত্রাসমেত এক/দুই/তিন মাত্রাবিশিষ্ট গঠন করা যায়।

পঞ্চমত, তিনছন্দের তিনটি উদাহরণ উপস্থাপন করা হলো। যা নিজেরা ব্যাখ্যা করে দেখবো।
“মা বলে তার আরে খোকা দুষ্টু বোকা আমার
জানো নাকি থানায় আছে দস্যিছেলের খামার?”
(পঙক্তিদ্বয় স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত, প্রত্যেক পর্ব চারমাত্রার এবং অতিপর্ব দু’মাত্রার।)

“সুখ আজ নিদ্রামগ্ন—মৃতপ্রায়, বিনিদ্র কষ্টের ফেনা
বেড়ে গেছে অসুরের ধুম্রজাল, অশান্তির লেনাদেনা।”
(পঙক্তিদ্বয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত, প্রতিটি পঙক্তিতে দুটি পর্ব বিদ্যমান। প্রথমটি বারোমাত্রার এবং দ্বিতীয়টি আটমাত্রার।)

“ভাল্লাগা কথাগুলো খুব ভালোবাসি
ত্রাণনীতি রাজনীতি দেখে দেখে হাসি”
(পঙক্তিদ্বয় মাত্রাবৃত্ত ছন্দে চারমাত্রার পূর্ণপর্ব এবং দু’মাত্রার অতিপর্ব নিয়ে গঠিত।)


ছন্দ: পৃথিবীর প্রত্যেক কর্ম এবং সৃষ্টির পথপরিক্রমায় ছন্দ আলৌকিকভাবে জড়িত। ছন্দ আছে বলেই সৃষ্টিজগত এত সুন্দর কিংবা তা আমাদের মন এবং হৃদয়ে প্রশান্তি আনে, আন্দোলিত করে। যা নিতান্তই উপভোগ্য বিষয়। যেমন একজন মানুষের লাফিয়ে হাঁটার চেয়ে স্বাভাবিক হাঁটা সৌন্দর্যের পরিচয় বহন করে থাকে। আবার স্বাভাবিক হাঁটা ও মার্চ ফাস্টের চিরাচরিত পার্থক্যে আমরা দেখতে পাই এক ধরণের রস ও মাধুর্য। এই নির্ণীত রস ও মাধুর্যই মূলত ছন্দ। সুতরাং আমরা বলতে পারি, কবি তাঁর হৃদে আবদ্ধ পরিমাপক যন্ত্রের নিপুণ ব্যবহারের মাধ্যমে শব্দগুচ্ছের বুনট শক্তিশালী প্রক্রিয়া প্রবৃদ্ধির ফলে কাব্যের রসঘন ও শ্রুতিমধুর বাক্যে সুশৃংখল ধ্বনিবিন্যাসের যে সৌন্দর্য সৃষ্টি হয় তাই ছন্দ। ছন্দ মূলত দেয়া-নেয়ার একটি পরিক্রমা। কবি এক বিশেষ ধ্বনিসুষমা দান করেন এবং পাঠক এক ধরনের ধ্বনিমাধুর্য উপভোগ করেন। বাংলা ছন্দ তিনপ্রকার।
• স্বরবৃত্ত ছন্দ,
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ ও
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ।
এছাড়া আধুনিকতার বর্ধিত কলেবর হিসেবে আরেকটি ছন্দ বর্তমান।
• গদ্যছন্দ (আধুনিক কবিতা)।

প্রত্যেক ছন্দের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো ধারাবাহিকভাবে দেয়া হলো।
স্বরবৃত্ত ছন্দ—
• প্রত্যেক মুক্তস্বর ও বদ্ধস্বর একমাত্রা।
• দ্রুত লয়ের, আবৃত্তির সময় দ্রুত পড়তে হয়।
• সর্বাধিক প্রচলিত মূল পর্ব চারমাত্রার, তবে মাত্রাবিন্যাস কবির ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু চার এবং পাঁচমাত্রার পর্ববিন্যাস সার্বিকভাবে ভাল্লাগা হয়।
• এই ছন্দকে সাধারণ ছড়া ও পদ্যের ছন্দ বলা যায়। এটি ছড়া ও পদ্যের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত ছন্দ।
• অন্ত্যমিল উপস্থিত।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দ—
• প্রত্যেক মুক্তস্বর একমাত্রা।
• বদ্ধস্বর শব্দের শুরু অথবা মধ্যখানে হলে একমাত্রা ও শব্দের শেষে হলে দু’মাত্রা।
• সর্বাধিক প্রচলিত মূল পর্ব আট ও দশমাত্রা। তবে কবির স্বাধীনতা রয়েছে।
• ধীর লয়ের কবিতা।
• অন্ত্যমিল উপস্থিত।

মাত্রাবৃত্ত ছন্দ—
• প্রত্যেক বদ্ধস্বর দু’মাত্রা ও প্রত্যেক মুক্তস্বর একমাত্রা।
• সর্বাধিক প্রচলিত মূলপর্ব বিন্যাস ছয় মাত্রাবিশিষ্ট। তবে চার/পাঁচ/ছয়/সাত হতে পারে।
• এটি নজরুল এবং রবীন্দ্রনাথের পছন্দের ছন্দ।
• আবৃত্তির গতি স্বরবৃত্ত ছন্দের চেয়ে ধীর এবং অক্ষরবৃত্তের চেয়ে দ্রুত।
• অন্ত্যমিল উপস্থিত।

গদ্যছন্দ—
• মাত্রাগণনার প্রয়োজন নেই।
• ভাবগম্ভীর্যপূর্ণ শব্দের উপস্থিতি।
• উপমার নিটোল ব্যবহার।
• অন্ত্যমিল অনুপস্থিত।
• এটির অপর নাম আধুনিক কবিতা।


অন্ত্যমিল: একাধিক পর্ব বা পঙক্তির শেষে ধ্বনির মিলনকে অন্ত্যমিল তথা অনুপ্রাস বলে। অনুপ্রাস পঙক্তির শুরুতে কিংবা মধ্যেও হতে পারে। তবে বাংলা কবিতার মৌলিক তিনছন্দে পঙক্তির শেষে অন্ত্যমিল থাকা বাঞ্ছনীয়। অন্ত্যমিল দু’প্রকার। সবল ও দুর্বল।

“ধূর্ত শেয়াল তীর ছুঁড়েছে, তীর ছুঁড়েছে অই
বনের যত দূর্বলেরা করছে যে হইচই”
(এখানে অই/চই অন্ত্যমিল)

“কথা ধরো বেশি পড়ো জীবন গড়ো আজি
তুমি হবে সোনার পালক, আমার দেশের মাঝি।”
(এখানে আজি/মাঝি পঙক্তির অন্ত্যমিল, অন্যদিকে প্রথম পঙক্তিতে ধরো/পড়ো/গড়ো দিয়ে পর্বের অন্ত্যমিল সৃষ্টি হয়েছে)

• সবল: সবল অন্ত্যমিলের উৎকৃষ্ট উদাহরণ- বাকি/ফাঁকি।
এখানে বাকি/ফাঁকি থেকে ব্যঞ্জনধ্বনি (ব+আকি/ফঁ+আকি) তুলে নিলে আকি/আকি অবশিষ্ট থাকে, যা নিরেট এবং সবল অন্ত্যমিল। কারণ সর্বশেষ ধ্বনির উৎকৃষ্ট মিল বিদ্যমান।

• দুর্বল: দুর্বল অন্ত্যমিলের উৎকৃষ্ট উদাহরণ- বাকি/দেখি।
এখানে বাকি/দেখি থেকে ব্যঞ্জনধ্বনি (ব+আকি/দ+একি) তুলে নিলে আকি/একি, যা নিতান্তই দুর্বল অন্ত্যমিল। কারণ, সর্বশেষ ধ্বনির মিলে হেরফের দেখা যায়।

নিজেরা দেখি—
“আগুন লাগে মনের ভেতর কিংবা মাথার মগজে
এই দুনিয়া মস্ত পাগল—তাই লিখে সে কাগুজে”

“যে ছেলেটি ভদ্র ছিলো নম্র ছিলো ঘরে এবং মাঠে
সে ছেলেটি জেলে এখন মগ্ন আছে কুরান-হাদিস পাঠে”

দীর্ঘক্ষণ কবিতার রচনাকৌশল (সংক্ষিপ্ত) আলোচনার ইতি ঘটার পূর্বে এতটুকুন আশা করতে পারি যে, আমরা যারা সাহিত্যের ছাত্র তাঁদের মনে কিঞ্চিৎ পরিমাণ হলেও লেখনী শক্তির উদ্ভব হবে। তাঁরা অন্তত প্রতি সপ্তাহে একটি ছড়া এবং একটি কবিতা রচনার স্বার্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো বলে আমি মনে করি।

লেখকঃ
সাদ্দাম হোসেন

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
জুলাই ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    আগষ্ট »
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১